সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ শোভাগঞ্জ এলাকায়

95

আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার-কুমারগ্রাম সড়কের শহর সংলগ্ন শোভাগঞ্জ এলাকায় রাতের অন্ধকারে রাস্তার একাংশ দখল করে দোকানপাট গজিয়ে উঠছে। রাস্তার পাশে থাকা পুরোনো গাছ রাতের অন্ধকারে কেটে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। শোভাগঞ্জ এলাকায় সড়কের অ্যাপ্রোচের মাটি কেটে রাতের অন্ধকারে অনেকেই নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। এ ধরনের কার্যকলাপে উদ্বিগ্ন জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা। বেশকিছুদিন ধরেই জবরদখলের ওই কার্যকলাপ চলতে থাকলেও প্রশাসন উদাসীন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জবরদখলের ফলে একদিকে এলাকা দুর্ঘটনাপ্রবণ হচ্ছে, অপরদিকে রাস্তার ধারের মাটি কাটায় যে কোনও সময় রাস্তা ধসে গিয়ে আশেপাশের বাড়িগুলি বিপদের মুখে পড়তে পারে। পূর্ত দপ্তরের (রোডস) নির্বাহী বাস্তুকার অভিজিৎ বারুই বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে শীঘ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন শোভাগঞ্জ এলাকায় রেলসেতু যাওয়ার আগে কুমারগ্রাম সড়কের অ্যাপ্রোচ রোডের ধারের মাটি কেটে সেখানে বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাতের অন্ধকারে ওই ধরনের একের পর এক নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্ত দপ্তরের জায়গা দখল করে দোকানপাট তৈরি করে প্রভাবশালীরা তা মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রিও করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। উদ্বেগের বিষয় হল যেভাবে দোকানপাট গড়ে তোলা হচ্ছে, কখনও ব্যস্ততম ওই রাস্তায় যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়লে অনেকের প্রাণহানিও ঘটতে পারে।  আলিপুরদুয়ার ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপ দাস বলেন, স্থানীয় কিছু মানুষ সড়কের অ্যাপ্রোচ রোডের মাটি কেটে রাতের অন্ধকারে নির্মাণকাজ করছে। কিছু দুষ্কৃতী রাস্তার ধারের পুরোনো গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগের। এই ধরনের জবরদখল ও গাছকাটার ঘটনায় যারাই জড়িত থাক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। বিরোধীরা জবরদখল নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, শোভাগঞ্জ এলাকায় পূর্ত দপ্তরের জায়গা দখল করে শাসকদলের আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী জায়গা বিক্রি করছে। শাসকদলের মদতেই বেআইনি ওই ধরনের নির্মাণকাজ চলছে। শাসকদলের প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় প্রশাসন সবকিছু দেখেও নির্বিকার। যদিও জবরদখলদারদের মদত দেওয়ার অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপ দাস। তিনি বলেন, বেআইনি কার্যকলাপকে কখনই সমর্থন করি না। শীঘ্রই প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার দাবি জানাব।