শিলিগুড়িতে অবাধে ঢুকছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র

164
প্রতীকী ছবি

শিলিগুড়ি : মাদক তো ছিলই, এবারে অবাধে শহরে ঢুকছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। টাকা ফেললেই পছন্দমতো ৯ এমএম পিস্তল থেকে শুরু করে অবাধে দেশি বন্দুক মিলছে। আর সামান্য ঘটনায় পিস্তল উঁচিয়ে ভয় দেখানোর প্রবণতাও বাড়ছে। শহরের মাটিগাড়া থেকে শুরু করে নিউ জলপাইগুড়ি থানার ভক্তিনগর, রাজাহাওলি, ফুলবাড়ি, প্রধাননগর থানার চম্পাসারি, শিলিগুড়ি থানার গঙ্গানগর সহ একাধিক এলাকায় অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মূলত দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ইসলামপুর এলাকা থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র শহরে ঢুকছে। অনেকে আবার শিলিগুড়িকে সেফ করিডর করে বাইরে পাচারও করছে। শিলিগুড়িতে লকডাউনের সময়ই অবৈধ পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখানো, তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। গত ৫ জুলাই এবং ১০ অগাস্ট ভক্তিনগর থানার আশিঘর ফাঁড়িতে দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগও হয়েছে। গোটা ঘটনায় এখনও অধরাই রয়েছে দুষ্কৃতীরা। বিষয়টি নিয়ে শহরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) জয় টুডু বলেন, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিলিগুড়ির যে কোনও এলাকায় গিয়ে খোঁজ করলে অবাধে মাদক পাওয়া যায়। ইদানীং শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করলেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের খোঁজ মিলছে। মূলত বিহার, দিল্লিতে সহজেই পিস্তল পাওয়া যাচ্ছে। আড়াই হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যেই দেশি পিস্তল হাতে পাওয়া যাচ্ছে। পিস্তল এনে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে দুষ্কৃতীরা নিজের কাছে রাখছে। শহরের বেশির ভাগ জমি মাফিয়ার কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকছে। ইস্টার্ন বাইপাস, এনজেপি এলাকায় সবচেয়ে বেশি অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। বিভিন্ন সময় ভয় দেখাতে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে এই ধরনের দুটি ঘটনা ঘটেছে। আশিঘর ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকে বাড়ির লোকজনকে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল। ওই এলাকায় দাদার সঙ্গে বিরোধে ভাইকে পিস্তল দেখিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে শিলিগুড়ির এনজেপি থানার ফুলবাড়ি এলাকায় ব্যাংকে টাকা জমা করতে যাওয়ার সময় পেট্রোল পাম্প কর্মীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে টাকা লুঠের ঘটনা ঘটেছে। শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডের গোল্ড লোন সংস্থায় দুষ্কৃতী হানা দিয়ে সোনা লুঠ থেকে শুরু করে পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি, হিলকার্ট রোডে সোনার দোকানে লুঠ করে শূন্যে গুলি, সবক্ষেত্রেই পিস্তলের ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি থেকে বিহার এবং জলপাইগুড়ির যে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের কাছ থেকেও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রশ্ন উঠছে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে শহরের সীমানায় কী করে দুষ্কৃতীরা ঢুকছে? শহরের প্রবেশদ্বারগুলিতে নিরাপত্তা এবং তল্লাশি বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।

- Advertisement -