তিস্তা ব্যারেজের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে মাছ চাষের রমরমা

305

তপন কুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: তিস্তা ক্যানেল প্রজেক্টর ইসলামপুর মহকুমা এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে মাছ চাষ করছে স্থানীয় মাফিয়ারা। অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দলের মদতপুষ্ট হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পান না স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ভূমি মাফিয়ারা তাদের মৌরসিপাট্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঢোকে শাসক দলের নেতাদের একাংশের পকেটে। এমনকি তিস্তা ক্যানেল প্রজেক্টের কোনও আধিকারিকরা ওই দখলদারদের উচ্ছেদ করতে উদাসীন বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে ইসলামপুর তিস্তা ক্যানেল প্রজেক্টের ডিভিশন-২’এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অভিজিৎ শিকদার বলেন, ‘আমি সবে নতুন কাজে যোগ দিয়েছি। তবে বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগীতা নিয়ে জমি উদ্ধার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

- Advertisement -

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিস্তা ক্যানেল প্রজেক্টের ইসলামপুরের ডিভিশন-২’এর অধীন ইসলামপুর, গোয়ালপোখর-১, করণদিঘি ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় তিস্তা ক্যানেলের একরের পর একর জলাশয়ে দুই দিকে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে স্থানীয় মাফিয়ারা। ওই তিন ব্লকে প্রায় শতাধিক জায়গায় দখল করে মাছ চাষ করছে ভূমাফিয়ারা। তারা রাজ্যের শাসক দলের মদতপুষ্ট বলে অভিযোগ।

ধনতলা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য জানান, তিস্তা ক্যানেলে কারা মাছ চাষ করবেন তা ঠিক করে দেন এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের একাংশ। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, একাজে মোটা টাকা লেনদেন হয়। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। যা বলার তিস্তা ক্যানেল প্রজেক্টের আধিকারিকরা বলবেন।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, তিস্তা ক্যানেলে জল থাকলে সাধারণ নদিয়ালি, খাল বিলের মাছ হত একসময়। স্থানীয় জলজীবিদের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। এখন তারা তিস্তা ক্যানেলে জলে নামতেও পারে না। এছাড়া ক্যানেলের জলাশয়ে পাট জাক দিতেন স্থানীয় চাষিরা। পাশাপাশি প্রয়োজনে সেচের জন্য ক্যানেল থেকে পাম্পসেটের মাধ্যমে জল তুলতে পারেন না চাষিরা ওই মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। এদিকে, তিস্তা ক্যানেল প্রজেক্টের এক আধিকারিক জানান, আসলে তাঁরা বিষয়টি জানলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযান চালাতেও ভয় পান তাঁরা। লিজের মাধ্যমে মাছ চাষের অনুমতি দিলে একদিকে সরকারের কোষাগারে অর্থ ও ঢুকত এবং ক্যানেলের রক্ষণাবেক্ষণও হত। এখন সব দিকই মার খাচ্ছে।

এদিকে ইসলামপুর তিস্তা ক্যানেল প্রজেক্টের ডিভিশন-২’এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অভিজিৎ শিকদার বলেন, ‘করণদিঘি ব্লকের নাগর সহ কয়েকটি জায়গায় এলাকায় মাছ চাষের জন্য ধান চাষের ক্ষতি হচ্ছে। তিস্তা ক্যানেলের জমি দখল করে মাছ চাষ ও ধানি জমির ক্ষতির বিষয়ে রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’