শহর ছাড়িয়ে এবার ফুলবাড়িতে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবে প্রতারণার ফাঁদ

418

সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি : শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার গ্রাম-গঞ্জে ডালপালা ছড়াচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব। ফুলবাড়ি এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই কারবার চালাচ্ছে একটি চক্র। অভিযোগ, এই কাজে শাসকদলের কিছু নেতার মদত রয়েছে। স্থানীদের অনেকে বিষয়টি জানলেও প্রতিবাদ করার সাহস করেননি। তবে সেখানে অনৈতিক কাজ চালানোর অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দিলীপ রায়। তিনি বলেন, ওই বাড়িতে রোজ প্রায় ৬০ জন যুবতি আসে বলে শুনেছি। ভেতরে কী করে জানি না। বিষয়টি নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশকেও জানিয়েছি। পুলিশও একদফা সেখানে গিয়েছিল। তবে সেখানে কী কাজ হয় সেটা বলতে পারব না।

ফুলবাড়ির বাজার থেকে ভেতরের রাস্তা দিয়ে ব্যারেজের দিকে যাওয়ার পথে একটি অর্ধসমাপ্ত বাড়ি রয়েছে। অভিযোগ, সেখানেই ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের আড়ালে একটি প্রতারণাচক্র সক্রিয় হয়েছে। বাড়ির মালিক অমিত সাহাও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। তবে মূলত তিন মহিলার অঙ্গুলিহেলনেই চলছে আসল কারবার। অমিত সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে বলে, আমাদের এখানে প্রথমে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। তারপর রিচার্জের কাজ চলে। ঘরে কলসেন্টার চালানো হয়। ফোন রিচার্জ ও অন্যান্য পরিসেবা দেওয়া হয়। তবে তাকে চেপে ধরতেই টাকার বিনিময়ে পুরো ব্যাপরটি ধামাচাপা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দুটি স্কুলবাসে করে মেয়েরা রোজ সকাল ১১টায় ওই বাড়িতে আসে। একবার বাড়ির ভেতর ঢুকে যাওয়ার পর কেউ একবারের জন্যও বের হয় না। বিকাল পাঁচটায় ফের দুটি স্কুলবাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

- Advertisement -

যেখানে এই কারবার চলছে সেখান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে শাসকদলের এক দাপুটে নেতার বাড়ি। বিষয়টি তিনিও জানেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাহলে সব জেনেও তিনি কেন মুখ খুলছেন না, উঠছে প্রশ্ন। প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘর ভাড়া নিয়ে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অনেককে আটকও করেছে। এরপর শহর থেকে এই কারবার মফস্সলের দিকে সরিয়ে নিয়ে য়াওয়া হয়। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ফুলবাড়ির এলাকায় কিছুদিন যাবত্ একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে উঠে আসছে। কখনও বোল্ডার বোঝাই গাড়ি থেকে বেআইনিভাবে সিন্ডিকেট বানিয়ে টাকা তোলা, আবার কখনও জমিদখলের অভিযোগে শিরোনামে উঠে এসেছে ফুলবাড়ি। সবক্ষেত্রেই শাসকদলের নেতাদের একাংশের নাম জড়িয়েছে। এক্ষেত্রেও য়ে তার অন্যথা হচ্ছে না সেকথা বলছেন অনেকেই। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, অনৈতিক কাজ চললে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।