ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : শীত পড়তেই আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন এলাকায় মেলা-জলসা শুরু হয়েছে। কোথাও কালীপুজো তো কোথাও রাস উপলক্ষ্যে মেলার আযোজন করা হচ্ছে। আবার কোথাও স্থানীয় ক্লাবের উদ্যোগে জলসার আয়োজন চলছে। অভিযোগ, এইসব মেলা- জলসার আড়ালে চলছে জুয়ার আসর। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বলেন, জুয়ার বিরুদ্ধে সবসময় আমাদের অভিযান চলে। ওই মেলায় য়দি জুয়ার আসর বসে তবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের চকোয়াখেতি গ্রামে দুদিন থেকে শুরু হওয়া মেলায় জুয়ার বোর্ড বসানোর খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ, সেখানে কালীপুজোকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে বোর্ড বসিয়ে চলছে জুয়ার আসর। সন্ধ্যা নামতেই জুয়ার আসরে ভিড় করছেন যুবক ও বয়স্করা। স্থানীয় ক্লাবের সহযোগিতাতেই একদল জুয়াড়ি ওই জুয়ার আসর চালাচ্ছে বলে খবর। জুয়ার আসরের পেছনে স্থানীয় শাসকদলের নেতার হাত থাকায় পুলিশও কিছু করছে না বলে অভিযোগ। তাই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ বাসিন্দারা। নভেম্বরের শুরু থেকেই তারস্বরে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায় জলসা চলছে। শহরের তুলনায় শহরতলি কিংবা প্রত্যন্ত এলাকাতে এ ধরনের জলসা বেশি হচ্ছে। অনেক জায়গায় গভীর রাত পর্যন্ত এ ধরনের জলসা চলছে বলে অভিযোগ। জলসার পাশাপাশি আবার গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ছোটো আকারের পুজোকে কেন্দ্র করে মেলাও বসছে। এইসব মেলায় একদিকে যেমন চলছে অবৈধ মদের দেদার বিক্রি, তেমনি বসছে জুয়ার আসর বলে অভিযোগ।

আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন চকোয়াখেতি গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ কামসিং পূর্বপাড়া এলাকায় চোপড়া নদীর পাড়ে কালীপুজোর মেলা বসেছে। স্থানীয় একটি কালীপুজো কমিটি ওই মেলার আয়োজন করেছে। জানা গিয়েছে, এই মেলায় রোজ সন্ধ্যা থেকে জুয়ার আসর বসছে। বোর্ড বসিয়ে প্রচুর টাকার খেলা চলছে সেখানে। পুজো কমিটির মদতেই স্থানীয় কয়েকজন ওই জুয়ার আসর বসিয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা সুনীল বর্মন বলেন, আমাদের গ্রামে প্রতিবছরই মেলা বসে। সেখানে গ্রামের ছোটো-বড়ো সবাই আনন্দ করি। কিন্তু এবার স্থানীয় কিছু যুবক জুয়ার আসর বসিয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করলেও তারা পাত্তা দেয় না। কালীপুজোর সঙ্গে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, জুয়ার আসর থেকে আমরা কিছুটা আর্থিক সাহায্য পাই। ওই টাকায় বড়ো করে পুজো আযোজন করা হয়। তাই জুয়ার আসর বসলেও আমাদের কোনো অসুবিধা নেই।

তৃণমূলের স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কাজল রায় বলেন, মেলায় মঙ্গলবার জুয়ার আসর বসেছিল বলে জানতে পেরেছি। তবে আর যাতে সেখানে জুয়ার আসর না বসে সে বিষয়ে ওই পুজো কমিটির সঙ্গে কথা বলা হবে। সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ওসি মিংমা শেরপা বলেন, চোপড়া নদী এলাকায় কালীপুজোর মেলায় জুয়ার আসর বসছে কিনা সেবিষয়ে আমাদের কাছে কোনো খবর নেই। বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগও করেনি। তবে ওখানে জুয়ার আসর বসলে তার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।