সন্ধ্যা নামলেই মদ-মাদকের রমরমা আসর বালুরঘাটে

149

পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট : সংস্কৃতির শহর হিসাবে সুনাম রয়েছে বালুরঘাটের। কিন্তু এই সুনামে কালি ছিটিয়েছে শহর ও তার আশেপাশের গ্রামগুলি। সন্ধে নামলেই শুরু মদের আসরের রমরমা। শুধু মদ নয়, আসক্তরা বিভিন্ন ধরনের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে বলে খবর মিলছে। পরিস্থিতি বাগে আনতে ইতিমধ্যেই বালুরঘাট থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এমনকি কদিন আগে এটিএম ভাঙার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিও মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে দিনের আলো কমতেই শহরের একাধিক জায়গায় বসছে মদ্যপানের আসর। কিন্তু ভয়ে মুখে কুলুপ এলাকাবাসীর। বালুরঘাটের কিছু জায়গায় মাদকাসক্তদের অত্যাচারে বাসিন্দাদের যে নাজেহাল অবস্থা, তা কারও অজানা নয়। শহরের অনেক বাসিন্দার মতে, বাধাহীনভাবে আনাচেকানাচে মদের ঠেক বসায় বিপথে যাচ্ছে যুবসমাজ। নেশার টাকা জোগাড়ের চাহিদায় বাড়ছে চুরি ও অপরাধমূলক কাজ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত পুলিশের।

- Advertisement -

কদিন আগে হাসপাতাল মোড়ের কাছে একটি এটিএম কাউন্টার ভাঙার ঘটনা সামনে আসে। তদন্তে নেমে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ পাওয়ার হাউস এলাকার এক মাদকাসক্তকে শনাক্ত করে। সেই ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই পুলিশ ডাকাতির ছক কষার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। বালুরঘাট থানার আইসি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ে কথায়, পোশাক দেখে তাকে শনাক্ত করা গিয়েছিল। সে একজন ড্রাগ আসক্ত। টাকা লুটের জন্য এটিএম ভাঙার চেষ্টা করেছিল বলে সে স্বীকার করেছে। এরই মধ্যে রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এক গুদামে ঠাঁই নেওয়া অসহায় বৃদ্ধা অপর্ণা মহন্ত মদ্যপদের অত্যাচারের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি পুলিশে অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

সম্প্রতি হোসেনপুরের সন্ন্যাস কলোনি এলাকায় মদ্যপানের আসরে অতর্কিত হানা দেন পুলিশর্মীরা। সেখান থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই এলাকায় প্রায়শই খোলা জায়গায় মদ্যপান সহ বিভিন্ন অভিযোগ আসছিল। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ায় খুশি ওই এলাকার বাসিন্দারা। বালুরঘাট থানার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু সন্ন্যাস কলোনি নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি মদের ঠেকে পুলিশ হানা দিচ্ছে। যাতে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে পুলিশ কড়া নজর রাখছে।

কিন্তু বালুরঘাট কি সংস্কৃতির শহরের গরিমা বজায় রাখতে পারবে? সন্দিহান শহরের বিশিষ্ট জনেরা। পাওয়ার হাউস এলাকার গল্পকার তথা শিক্ষক গগন ঘোষ মনে করেন, মদ্যপদের কর্মকাণ্ড কড়া হাতে রোধ না করলে সবারই বিপদ। সাধারণ মানুষকেও সোচ্চার হতে হবে। বঙ্গরত্ন প্রাপক সমাজকর্মী তাপস চক্রবর্তী বলেন, বিভিন্ন কাজ সেরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার ধারে মাদকাসক্ত যুবকদের দেখা মেলে। তারা মদ ছাড়াও যে অন্য নেশায় জড়িত, তা পরিষ্কার বোঝা যায়। এদের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেশার টাকা জোগাড় না করতে পেরে এরা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশকে এসব দমনে আরও সক্রিয় হতে হবে। চকভৃগু এলাকার কবি সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, আত্রেয়ী নদীর পাড়ে ছোট থেকে বড় হয়ে উঠেছি। এভাবে শহরের পরিবেশ নষ্ট হওয়া চোখে দেখা যাচ্ছে না। সামাজিক স্বাস্থ্য নষ্ট হলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের হানি ঘটবে। স্থানীয়দের সঙ্গে মেলবন্ধনে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ করা উচিত।