শিলিগুড়ি শহরে বেআইনি হোর্ডিংয়ে রমরমা

329

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি শহরে হোর্ডিং-এর বরাত দেওয়া নিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পুরনিগম থেকে কীভাবে, কাকে কতদিনের জন্য হোর্ডিং লিজ দেওয়া হচ্ছে, কীভাবে সেই হোর্ডিংয়ে পুনর্নবীকরণ হচ্ছে পুরো বিষয়টি নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল তণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, হোর্ডিং ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে পুর আইনকে পুরোপুরি লঙ্ঘন করছে বর্তমান পুরবোর্ড। সমস্ত নিয়ম মানার ক্ষেত্রে সমস্যা যে কিছু রয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন পুরনিগমের ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের মেয়র পারিষদ কমল আগরওয়াল। তিনি বলেন, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে, কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় এবং পরিকাঠামোর অভাবেই আমরা হোর্ডিং নিয়ে কড়াকড়ি করতে পারছি না। এরই মধ্যে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শিলিগুড়ি শহরে কয়েকশো হোর্ডিং রয়েছে যেগুলি থেকে পুরনিগম নিয়মিত লিজ দিয়ে কর আদায় করে। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুয়াযী য়ে হোর্ডিংগুলি লিজ দেওয়া হবে সেগুলিতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির নাম ও ফোন নম্বর, পুরনিগমের লোগো বা অন্য কোনো চিহ্ন থাকতে হবে। য়াতে পুরকর্মীরা হোর্ডিং দেখেই বুঝতে পারেন কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ। কিন্তু শিলিগুড়ি শহরে কোনও হোর্ডিংয়ে এজেন্সির বা পুরনিগমের কোনও লোগো নেই। অথচ প্রতি বছর পুরনিগম থেকে হোর্ডিং-এর জন্য বরাত দেওয়া হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, শহরে প্রচুর বিশাল বিশাল হোর্ডিং রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রায়ই নতুন নতুন হোর্ডিং তৈরিও হচ্ছে। কিন্তু সেই হোর্ডিং আদৌ পুরনিগম লিজ দিয়েছে, নাকি অবৈধভাবে সেই হোর্ডিং তৈরি হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে না। পুরনিগমের কাউন্সিলার নান্টু পাল বলেন, ২৫টি হোর্ডিংয়ে ভাড়া দিয়ে শহরে ১০০ হোর্ডিং দখল করে দিব্বি বিজ্ঞাপন দিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। পুরনিগমের এদিকে কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। আমরা বোর্ডসভায় বারবার এই বিষয়টি গোচরে আনছি। কিন্তু পুরকর্তারা এসব দিকে কোনও গুরুত্বই দিচ্ছেন না। এর পিছনে কী রহস্য রয়েছে আমাদের জানা নেই। পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট মেয়র পারিষদই বলতে পারবেন না শহরে ঠিক কতগুলি হোর্ডিং রয়েছে। হোর্ডিংকে সামনে রেখে পুরো তোলাবাজি এবং আর্থিক অনিয়ম হচ্ছে। সরকারি নিয়ম মেনে প্রত্যেকটি হোর্ডিংয়ে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির নাম, ফোন নম্বর এবং পুরনিগমের লোগো থাকা বাধ্যতামূলক। যাতে পুরনিগমের সঙ্গে যুক্ত লোকজনই হোক বা সাধারণ মানুষও শহরে হোর্ডিং দেখে বুঝতে পারবেন যে কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ। কিন্তু বারবার বলেও বর্তমান পুরবোর্ড এই হোর্ডিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে পারল না। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। আমরা চাই এই হোর্ডিং-এর বরাত দেওয়া নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। মেয়র পারিষদ বলেন, এটা ঠিকই যে সমস্ত হোর্ডিংই বৈধ নয়। কিন্তু অবৈধ হোর্ডিং খুঁজে বের করা, সেগুলি খুলে ফেলা এবং বেআইনি হোর্ডিংয়ে কাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে লোকবল প্রয়োজন। যা আমাদের হাতে নেই। তবুও এর মধ্যেই আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।

- Advertisement -