মাসোহারার পরিবর্তে মেলে আগাম খবর, বুক ফুলিয়ে চোলাইয়ে ব্যবসা

365

খোকন সাহা  বাগডোগরা : অভিযানের আগেই খবর চলে যায় চোলাই কারবারিদের কাছে। সেইমতো সরিয়ে নেওয়া হয় চোলাই তৈরির উপকরণ। ফলে দু-চারটে হাঁড়ি, পুরোনো ড্রাম আর গুড়ের টিন ভেঙেই রণে ভঙ্গ দেয় পুলিশ। খোদ চোলাই কারবারিদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের কাছ থেকে মাসোহারা নেয়। আর সেই কারণেই অভিযানের খবর চলে আসে আগেভাগে। এমনকি তারা বুক ফুলিয়ে এও বলছে, বালাসনের ধারে ধীমাল গ্রামে এই চোলাইয়ের কারবার বন্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই। কারণ এই লাভের গুড় সবাই খায়। যদিও এ ব্যাপারে কোনও পুলিশকর্তা সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (ওয়েস্ট) চিন্ময় মিত্তাল বলেন, চোলাই তৈরির বিষয়টি জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

ধীমাল, নয়াবস্তি, বালিবাড়ি সহ সংলগ্ন গ্রামগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে চোলাইয়ের কারবার চলছে। বালাসনের বাঁধের ওপর বড় আকারের চোলাই তৈরির ঘাঁটি থাকলেও প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চোলাই তৈরি হয়। এই অঞ্চলের চোলাই রপ্তানি হয় শিলিগুড়ি মহকুমার সিংহভাগ গ্রাম ও চা বাগান এলাকায়। এমনকি শিলিগুড়ি শহরের কিছু এলাকায়ও এই ক্ষতিকর চোলাই যায়। ধীমাল গ্রামের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, বর্তমানে বালাসনের বাঁধের ঘাঁটিতে কম পরিমাণে চোলাই তৈরি হচ্ছে। তার পরিবর্তে ঘরে ঘরে চোলাই তৈরির পরিমাণ বেড়েছে। কারণ  চোলাই তৈরির সময় মূলত নদীর জল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্ষার সময় নদীর জল ঘোলাটে হওয়ায় সেই জল ব্যবহার করলে খদ্দেররা অভিযোগ করেন। সেই কারণে চোলাই তৈরিতে এখন বাড়ির কুয়োর জল ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তি আরও জানান, বাড়িগুলিতে খদ্দেরদের বসে চোলাই খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। সেখানে মাঝরাত পর্যন্ত আসর চলে। মাটিগাড়া, শিবমন্দির, গোঁসাইপুর, বাগডোগরা সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেই নেশার আসরে যান। প্রথম পর্যায়ে লকডাউনের সময় যখন মদের দোকান বন্ধ ছিল, তখন চোলাইয়ের বেশ রমরমা বাজার ছিল। ধীমালজোতের রাস্তার পাশের এক দোকানি বলেন, এখানকার কারবার কোনও দিন বন্ধ হবে না। কারণ অধিকাংশ মানুষ চোলাইয়ের ব্যবসাকেই তাদের প্রধান রুটিরুজি হিসাবে বেছে নিয়েছে। তাছাড়া প্রশাসনকে হাত করে ব্যবসা করছে। সুমিত্রা শৈব নামে এক চোলাইয়ের কারবারি বলেন, আমরা মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করি। ২৫ অগাস্ট যখন গ্রামে অভিযান হয়েছিল, তার আগেই আমরা খবর পেয়েছিলাম। সেজন্য সবকিছু আমরা আগেই সরিয়ে দিয়েছিলাম। আবগারি বিভাগের বাগডোগরা সার্কেলের ওসি সুভাষ হালদার বলেন, ওই এলাকায় ফের চোলাই তৈরি হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। তবে ওখানে অভিয়ান চালাতে হলে রীতিমতো প্রস্তুত হয়ে যেতে হবে। আমরা লাগাতার অভিযান চালানোর চেষ্টা করছি।

- Advertisement -