আসল-নকল মদের ফারাক ধরা মুশকিল

ডালখোলা : ঝাঁঝ ও গন্ধে কোনও নামী কোম্পানির দেশি বা বিলিতি মদ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু চিনতে গিয়ে ক্রেতাদের হার মানতে হয়। কারণ, বোতলের মান থেকে শুরু করে লেবেল, ছিপি সবই হুবহু নাম করা ব্র‌্যান্ডের মতো। ক্রেতাদের কথা তো ছেড়েই দিন, আসল-নকলের তফাত বুঝতে গিয়ে আবগারি দপ্তরের দুঁদে কর্তারাও হিমসিম খাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে বাংলা-বিহার সীমান্তঘেঁষা ডালখোলা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নকল মদের রমরমা কারবার রুখতে উত্তর দিনাজপুর জেলা আবগারি দপ্তর লাগাতার অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিহারের বিধানসভা ভোট শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই মদের চাহিদাও বাড়বে। চাহিদা বাড়লে জোগান দিতে কারবারিরা প্রস্তুত থাকবে। সেই কারণে যাতে মদ বিহারে যেতে না পারে, তার জন্য লাগাতার নাকা চেকিং ও তল্লাশি অভিযান চলবে। সম্প্রতি আবগারি দপ্তর বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযানও চালায়। অভিযানে আবগারি দপ্তরের কর্মীরা ঘরের মেঝে খুঁড়ে ৪,০০০ লিটার স্পিরিট, ৭০০ লিটার মদ সহ নকল মদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছেন বলে উত্তর দিনাজপুর জেলার আবগারি দপ্তরের সুপার গৌতম পাখরিন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিম্নমানের স্পিরিট ব্যবহার করে নকল মদ তৈরি হচ্ছে। তার জন্য স্বাস্থ্য থেকে রাজস্ব সব কিছুর ওপরেই খারাপ প্রভাব পড়ছে।

- Advertisement -

জেলা আবগারি দপ্তরের এক কর্মীর মতে, নকল মদে ব্যবহৃত মিথাইল অ্যালকোহল একরকমের বিষ। এতে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হয়। উদ্ধার হওয়া মদের লেবেল ও কার্টন দেখে ঠাওর করা মুশকিল হলেও দপ্তরের কর্মীরা স্ক্যান করে আসল বা নকল ধরে ফেলেন। তবে বিভিন্ন এলাকা থেকে নকল মদের কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পেয়ে কোথাও অভিযান চালানোর আগেই কারবারিদের কাছে খবর পেঁছে যাচ্ছে। ফলে অভিযান চালালেও কারবারিরা অধরা থেকেই যাচ্ছে বলে দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। যদিও ডালখোলা পুরসভার বাসিন্দা বিজয় বারুইয়ে অভিযোগ, নকল মদের কারবার রুখতে পুলিশ ও আবগারি উভয়ে ব্যর্থ। নকল মদ কারবারিদের রাঘববোয়ালরা পার পেয়ে যাচ্ছে। অভিয়ান চলছে চুনোপুঁটি কারবারিদের আড্ডায়।

এদিকে, ডালখোলা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুভাষ গোস্বামীর অভিযোগ, ডালখোলায় নকল মদের মূল কারবারি জেলা বিজেপির এক নেতা। সম্প্রতি ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আবগারি দপ্তরের কর্মীরা অভিযান চালিয়ে যেখান থেকে নকল মদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছেন, সেটা বিজেপির কর্মীর জায়গা। যদিও বিজেপির ডালখোলা শহর মণ্ডল সভাপতি হরিমোহন মজুমদার বলেন, শাসকদল তৃণমূলের ছাত্রছায়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে নকল মদের কারবার চলছে। বিজেপির কোনও কর্মী এর সঙ্গে যুক্ত নয়। এই ব্যাপারে ডালখোলা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তনয় দে বলেন, যারা নকল মদের কারবারের সঙ্গে যুক্ত তারা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ ও আবগারি দপ্তর কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা কেন নিচ্ছে না তা বোধগম্য নয়।

যদিও পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের কর্তারা নকল মদের বাড়বাড়ন্তের আরেকটা কারণ হিসেবে ট্যাক্স না দেওয়ার বিষয়টিকেও দেখছেন। অন্যদিকে, নকল মদের জনৈক কারবারি জানায়, এই কারবার চালাতে প্রশাসনের কর্তা ছাড়াও রাজনৈতিক দলের নেতাদের খুশি রাখতে হয়। কারণ, শাসকদলের নেতাদের হাত মাথায় না থাকলে কাজ করা যাবে না। নকল মদ তৈরি করে অসৎ উপায়ে একদল অসাধু মানুষ বিপুল অর্থ উপার্জন করছে।