কামাখ্যাগুড়ি : দীর্ঘদিন ধরে কামাখ্যাগুড়ি বাজার সহ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় রমরমিয়ে চলছে মদের অবৈধ কারবার। কামাখ্যাগুড়ি বাজারের বেশ কিছু ব্যবসায়ী নিজেদের মূল ব্যবসার আড়ালে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ মদের রমরমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুবসমাজ। স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারাও অনেক সময় কিছু মদের দোকানে ভিড় জমাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে কামাখ্যাগুড়ির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। মদের অবৈধ কারবার রুখতে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন এলাকার মহিলারা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, মদের অবৈধ কারবার রুখতে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, শুধু কামাখ্যাগুড়ি নয়, কুমারগ্রাম ব্লকের বারবিশা, খোয়ারডাঙ্গা সহ বেশ কিছু স্থানে অবৈধ মদের রমরমা কারবার চলছে। পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই কারবার চলছে? সেই প্রশ্নই তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তবে সম্প্রতি কামাখ্যাগুড়িতে মদের অবৈধ কারবার রুখতে পুলিশ বেশ কিছু অভিযান চালিয়েছে। সেগুলিতে সাফল্যও মিলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ অক্টোবর কমল সাহা নামে এক ব্যবসায়ীর পান দোকান থেকে ৪০ লিটার অবৈধ মদ উদ্ধার করে পুলিশ। কমল সাহাকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬ অক্টোবর দক্ষিণ কামাখ্যাগুড়ির নয়ারহাট বাজারের ব্যবসায়ী অজিত পালের চায়ে দোকান থেকে ৪৫ লিটার মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। মদের অবৈধ কারবারের অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ৩০ অক্টোবর এলাকার মহিলারা কামাখ্যাগুড়ি বাজারে অভিযানে যান। দুটি দোকান থেকে বেশ কয়েক কার্টন মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪৩ লিটার অবৈধ মদ উদ্ধার করে। বাকি মদ মহিলারা নষ্ট করে দেন। গ্রেফতার করা হয় প্রসেনজিৎ দে নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি কামাখ্যাগুড়ির তেঁতুলতলার বাসিন্দা।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানের পরও কামাখ্যাগুড়ি বাজারে অবৈধ মদের কারবার বন্ধ হয়নি। সূত্রের খবর, কামাখ্যাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির অফিস সংলগ্ন মুড়িহাটি এলাকায় ৩টি দোকানে মদের অবৈধ কারবার চলে। বাজারের শৌচালয়ে কাছে দুটি দোকানেও স্টেশনারি সামগ্রীর ব্যবসার আড়ালে এই অবৈধ কারবার চলছে। আবার বাজারের ভেতরের এক ব্যবসায়ী নিজের মূল ব্যবসার আড়ালে অবৈধ মদের কারবার চালান বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কামাখ্যাগুড়ি পাইকারি সবজি বাজারেও দুজন ব্যবসায়ী এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছেন বলে কামাখ্যাগুড়ি বাজার সূত্রে খবর। পুলিশ ও মহিলাদের অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি এই কারবার। কীভাবে ওই ব্যবসাযীরা অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তা জানতে চান কামাখ্যাগুড়ির বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কামাখ্যাগুড়ি বাজারের এক ব্যবসাযী বলেন, সারাদিন ধরেই এই কারবার চলে। তবে, সন্ধ্যার পর থেকে মদের অবৈধ কারবারের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়। মাঝরাত পর্যন্ত চলে মদ বিক্রি। পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে এই কারবার রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মদবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মমতা পাল। তিনি বলেন, রাত ১টা-২টা পর্যন্ত এই কারবার চলে। সমাজের পক্ষে এটা খুবই ক্ষতিকর। এই কারবার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিক পুলিশ- এই দাবি জানাচ্ছি। একই কথা জানান অন্য এক মহিলা অপরাজিতা ঘোষ। কামাখ্যাগুড়ির বাসিন্দা তথা পেশায় অধ্যাপক অসিতকান্তি সরকার বলেন, মহিলাদের অভিযান প্রশাসনের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে। মদের অবৈধ কারবার রুখতে পুলিশ ও প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩-৪ বছরের বেশি সময় ধরে খোদ ব্যবসায়ী সমিতির অফিসের কাছেই এই কারবার রমরমিয়ে চলছে বলে অভিযোগ। তাই স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ী সমিতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যবসায়ী সমিতির অফিসের কাছে কীভাবে এই অবৈধ কারবার চলছে? সেটা জানতে চান কামাখ্যাগুড়ির জনসাধারণ। অথচ, কামাখ্যাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তপন সাহা বলেন, আমি কালীপুজো চলাকালীন কিছুদিন অফিস যাইনি। এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। কামাখ্যাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক প্রাণকৃষ্ণ সাহা এ বিষয়ে বলেন, মদের অবৈধ কারবার বন্ধের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কামাখ্যাগুড়ি পুলিশ আউটপোস্টের ওসি নয়ন দাস বলেন, মাসখানেক হল আমি কামাখ্যাগুড়িতে কাজে যোগ দিয়েছি। মদ বিরোধী অভিযানে সাফল্য মিলেছে। কমল সাহা, অজিত পাল, প্রসেনজিৎ দে নামে ৩ জন অবৈধ মদের কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজনই বর্তমানে জেল হেপাজতে রয়েছেন। ভবিষ্যতেও মদের অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।