চায়ের দোকানই ‘বার’,  স্টিলের গ্লাসে মিলছে রঙীন পানীয় 

435

রাঙ্গালিবাজনা :   অনেক জায়গাতেই মদ বিক্রির অনুমোদিত দোকান নেই। তবে তাতে কিছু যায় আসে না। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে দেশি বিদেশি মদ । চায়ের দোকানই এখন ‘বার’ । সেখানেই মেলে রঙিন পানীয়। তবে, শর্ত একটাই, পান করতে হবে স্টিলের গ্লাসে। স্বাভাবিকভাবেই, দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও বোঝার উপায় নেই,  গ্লাসে সাধারণ জল রয়েছে, না কি রয়েছে  রঙিন পানীয়। এমনকি, হাঁড়িয়ার ঠেকেও মিলছে ভুটানি মদ।  সন্ধ্যা হলে স্কুলের ফাঁকা মাঠেও বসছে মদের আসর ।

মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে গোটা বিশেক  চা বাগান রয়েছে । চা বাগানে হাঁড়িয়া পানের রেওয়াজ রয়েছে । তবে, হাঁড়িয়ার পাশাপাশি  দেশি ও বিদেশি মদের প্রতি আসক্তি উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। চা বাগানের উঠতি প্রজন্মের অনেকেই এখন হাঁড়িয়ার চেয়ে বোতলবন্দি দেশি-বিদেশি মদ বেশি পছন্দ করে । তবে, শুধু চা বলয় নয়, মাদারিহাটের  আনাচে কানাচে গ্রামগুলিতেও খোঁজখবর করলেই মদ জুটে যায়। বিশেষ করে , মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকটি ভূটান সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় চোরাপথে ঢুকে সহজেই রঙিন পানীয় পাওয়া যায়।  দেশি বিদেশি মদের সাপ্লায়ারদের এখন রমরমা কারবার।

- Advertisement -

মাদারিহাট থানার এমএলএর হাটের কথাই ধরা যাক । প্রতি মঙ্গলবার সেখানে হাট বসে। হাটের পূর্ব প্রান্তে মুজনাই নদীর পাড়বাঁধের ওপর বসে হাঁড়িয়ার দোকান । তবে, সেখানে শুধু হাঁড়িয়া নয়, মেলে দেশি ও ভূটানি মদও । রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের  ওই এলাকা সহ  পশ্চিম খয়েরবাড়িতে  চার-পাঁচটি চায়ের দোকান রয়েছে যেগুলিতে চায়ের চেয়ে দেশি মদ বেশি বিক্রি হয়। সন্ধ্যা হলেই রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিতে দেখা যায় মাতালদের উৎপাত। সমাজের একটু সম্মানীয় , শিক্ষিত  ও  প্রভাবশালীদের কাউকে কাউকে রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিতে মত্ত অবস্থায় দেখা যায় রাত ন’টার পর। আর এলাকায় রাস্তাঘাটে হাঁড়িয়াখোরদের পড়ে থাকতে দেখা যায় দিনের বেলাতেই ।

পশ্চিম খয়েরবাড়ির বাসিন্দা তথা খয়েরবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য  শৈলেন রায় বলেন, ‘দেশি ও বিদেশি মদ  এলাকার সামাজিক পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে। আমাদের এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে বেশ কয়েকজন যুবক মারা গিয়েছেন। বেশ কয়েকজন রোগে ভুগছেন। সন্ধ্যা হলেই রাঙ্গালিবাজনা মোহনসিং হাইস্কুলের মাঠেও বসছে মদের আসর।’ শিশুবাড়ি এলাকাতেও মদের রমরমা কারবার চলছে। এক পানাসক্ত  যুবকের তো দু’টি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে । শিশুবাড়ির চাঁপাগুড়িতে কয়েকদিন আগেই মারা যায় এক পানাসক্ত যুবক। চাঁপাগুড়িতে মুজনাই রেলস্টেশনের পশ্চিম দিকে বসছে মদ, গাঁজা ও কাফ সিরাপ সেবনের আড্ডা।

রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের জাহাদিপাড়ায় হাঁড়িয়ার ঠেকে গত ১৯ এপ্রিল এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে । এরপর ৩০ জুন  ওই এলাকাতেই বাবা ও ছেলে মদ্যপ অবস্থায় বচসায় জড়িয়ে পড়লে বাবা ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে ছেলেকে । ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। এলাকার বাসিন্দা তথা রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান অনিতা ওরাওঁ বলেন,  ‘লাগাতার আন্দোলনের পরও এলাকায় হাঁড়িয়ার ঠেক বন্ধ হয়নি। এলাকার মহিলারা মিলে ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

মাদারিহাট থানার ওসি অনির্বাণ মজুমদার বলেন, ‘লাগাতার মদবিরোধী অভিযান চলছে। কয়েকদিন আগে শিশুবাড়ি থেকে এক মাতালকে আটক করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।’

তথ্য- মোস্তাক মোরশেদ হোসেন