একুশের ভোটের আগে চড়ছে পারদ, চোপড়ায় মজুত হচ্ছে অস্ত্র

180
প্রতীকী ছবি

অরুণ ঝা, চোপড়া : বিধানসভা ভোটের পারদ চড়তেই চোপড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ফের শুরু হয়েছে গোলাবারুদ মজুতের কালা কারবার। গ্রাম পঞ্চায়েত পিছু গোলাবারুদের জন্য শাসক-বিরোধী শিবিরের বরাদ্দ কমপক্ষে ৩০ লক্ষ টাকা। অর্থাত্ ১০টি গ্রাম পঞ্চায়ে মিলিয়ে বিধানসভা ভোট নিয়ন্ত্রণ করতে গোলাবারুদের জন্য কয়ে কোটি টাকা বিনিযোগ হতে শুরু করেছে। সাম্রাজ্য ধরে রাখা ও সাম্রাজ্য দখল করার ছকে শাসক ও বিরোধীর ভরসা গোলাবারুদ। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা অ্যাকশন স্কোয়াডের কিংপিন থেকে মাস্টারমাইন্ডদের একাংশই উত্তরবঙ্গ সংবাদের কাছে এই কথা স্বীকার করেছে। খোদ চোপড়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিধায়ক, তৃণমূলের হামিদুল রহমানও বিরোধীরা অস্ত্র ভাণ্ডার মজুত করছে বলে অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির শাসকদলের বিরূদ্ধে চোপড়াকে বারুদের স্তূপের ওপর বসানোর অভিযোগে সরব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই চোপড়া অবৈধ গোলাবারুদের আঁতুড়ে পরিণত হয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটের পর প্রায় এক বছর ধরে এলাকার দখল এবং রাজনৈতিক হানাহানির জেরে চোপড়ায় মুড়িমুড়কির মতো বোমা ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক হানাহানির জেরে দিদির বিয়ের দিন চোপড়ায় এক স্কুল পড়ুয়াও গুলিবিদ্ধ হয়। সেই নজিরও রয়েছে।

- Advertisement -

রাজ্য রাজনীতির বদলাতে থাকা সমীকরণে চোপড়ার অবৈধ অস্ত্র বাজারে গোলাবারুদের দাম হুহু করে বাড়ছে। তবে ওয়ান শাটার বা পাইপগান এখন ব্যাকডেটেড। অন্তর্তদন্তে জানা গিয়েছে, এই বাজারে একটি দোনলা বন্দুকের দাম প্রায় ১ লক্ষ টাকা। এই অস্ত্রের রেঞ্জ বেশি থাকায় এবং ছররা গুলির কারণে একসঙ্গে অনেককে জখম করা যায়। ফলে দোনলার ডিমান্ড বেড়েছে। আমেরিকা মেড ৯ এমএম পিস্তলের দাম প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এই ব্র‌্যান্ডের তিন নম্বর কোয়ালিটির দাম প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। বোমার এক কেজি বারুদের দাম ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। যা দিয়ে চার থেকে পাঁচটি শক্তিশালী বোমা তৈরি করা যায়। ফলে এলাকা দখলের খরচও বাড়ছে হুহু করে। একটি দানার (গুলি) দাম গড়ে ৬০০ টাকা।

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, গোলাবারুদে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করার পিছনে কোন অঙ্ক কাজ করছে? চোপড়ার এক বর্ষীয়ান নেতা বলেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চোপড়া আর্মস মাফিয়াদের জন্য খুব বড় মার্কেট। বর্তমানে তা অস্ত্রের সুপার মার্কেটে পরিণত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চোপড়ায় অবৈধ অস্ত্রের ভাঁড়ার ওপেন সিক্রেট। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নবান্ন পর‌্যন্ত এই মর্মে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট রয়েছে। আরও যা তথ্য উঠে এসেছে তাতে বিহারের আর্মস মাফিয়াদের করিডরে এখন পরিণত হয়েছে চোপড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা।

উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ফারাজুল ইসলাম বলেন, শাসকদলের গোলাবারুদের ভাণ্ডার ও সন্ত্রাসের কথা এলাকার সবার জানা। গত পঞ্চায়েত ভোটের মতোই আগামী বিধানসভা ভোটে ক্ষমতা ধরে রাখতে তৃণমূল প্রচুর মাত্রায় গোলাবারুদ আমদানি শুরু করেছে। বিরোধীদের কাছে অস্ত্র নেই। কারণ, এত টাকা আমরা পাব কোথায়। তবে বিধানসভা ভোটে শাসকদলকে সব ধরনের জবাব দিতে আমরা এবার প্রস্তুত। বিধায়ক হামিদুল রহমান বলেন, চোপড়া শান্তিপ্রিয় এলাকা। বুলেটে নয়, আমরা ব্যালটে বিশ্বাস করি। সাধারণ মানুষই বিরোধীদের উচিত শিক্ষা দেবে। আসলে গণতান্ত্রিকভাবে না পেরে উঠে বিরোধীরা বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ গোলাবারুদের ভাণ্ডার বানিয়ে রেখেছে। আর আমাদের বদনাম করার ছক কষেছে। পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। আমরা দলীয়স্তরেও বিষয়টি নজরে রেখেছি। কার কত গোলাবারুদের ভাণ্ডার আছে তা ধরা পড়লেই বোঝা যাবে। উচিত জবাব দিতে আমরা পিছপা হব না।

উল্লেখ্য, চোপড়ায় বুলেটের জবাবে বুলেট ফর্মুলা শুরু হলে ভোটের দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ এখন থেকেই কাজ করতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় ভোট ঘোষণার আগেই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার দাবিও উঠতে শুরু করেছে। এনিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তুঙ্গে।