ভোট মিটতেই শিল্পাঞ্চলে সক্রিয় বালি ও কয়লার কারবার

86

আসানসোল: রাজ্যে বিধানসভা ভোট মিটতে না মিটতেই, আসানসোল শিল্পাঞ্চলে কয়লা ও বালি মাফিয়ারা ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। একদিকে, বেআইনি কয়লা বাজেয়াপ্ত করতে গিয়ে কয়লা মাফিয়াদের হাতে মার খেয়ে ইসিএলের সিকিউরিটি ইনচার্জ দিলীপ প্রসাদ গুরুতর জখম হন। ইসিএলের কাল্লা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোলের বারাবনি থানার ইসিএলের সালানপুর এরিয়ায় খয়রাবাদে। অন্যদিকে, বালি মাফিয়াদের অত্যাচার বন্ধ করতে রাস্তায় নেমে গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করতে গেলে, তাঁদের অস্ত্র দেখিয়ে ধমকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে আসানসোলের হিরাপুর থানা এলাকায়।

উভয় ক্ষেত্রেই অবশ্য পুলিশ দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে। জানা গিয়েছে, সূত্র মারফৎ খবর পেতেই রবিবার বারাবনি থানার খয়রাবাদ গ্রামের শিবমন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ কয়লা বাজেয়াপ্ত করতে গিয়েছিলেন ইসিএলের সালানপুর এরিয়ার সিকিউরিটি ইনচার্জ দিলীপ প্রসাদ। অভিযেগ, সেসময় কয়লা মাফিয়ারা তাঁর উপড চড়াও হয়। মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় মাথা। কোনওমতে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন তিনি। তাঁর কথায়, কয়লা মাফিয়ারা তাঁকে খুন করে পুকুরের জলে ফেলে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিল।

- Advertisement -

দিলীপ প্রসাদ বলেন, ‘ইসিএলের সালানপুর এরিয়ার মোহনপুর কোলিয়ারি সংলগ্ন খয়রাবাদ গ্রামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কয়লা মজুত করে রাখার খবর পেতেই তা বাজেয়াপ্ত করতে খয়রাবাদ গ্রামের শিবমন্দির এলাকায় গিয়েছিলাম। একইসঙ্গে খবর দেওয়া হয়েছিল বারাবনি থানায়। কিন্তু, ততক্ষণে কয়লা মাফিয়ারা লাঠি ও রড নিয়ে আক্রমণ করেছে। উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা। ঘটনায় বারাবনি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, পূর্বেও মাফিয়ারা আমাকে ফোনে হুমকি দিয়েছিল যা আমি আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের এডিসিপি(পশ্চিম)-এর কাছেও অভিযোগ করেছিলাম।

বারাবনি থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, আসানসোল পুরনিগমের কুলটির ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালাডিয়া, পাটমোহনা, রানিসায়ের, আলুঠিয়া গ্রামের মধ্যে দিয়ে দামোদর ঘাটের অবৈধ বালি গাড়ি করে পাচারের জন্য গ্রামগুলির রাস্তা খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। কুলটি বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কুলটি ব্লক সভাপতি বিমান আচার্যের ছেলে চন্দন আচার্য গ্রামের তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে হিরাপুর থানায় রবিবার রাতে বিক্ষোভ দেখান।

সোমবার তাঁরা ফের হিরাপুর থানায় এসে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, রবিবার অভিযোগ নেওয়া না হলেও, সোমবার হিরাপুর থানার পুলিশ তা গ্রহণ করেছে বলে চন্দনবাবু জানান। অপরদিকে, চাপারাইত এলাকার বাসিন্দা বিপদতারণ ঘোষ অভিযোগ করেন, এই বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে। তিনিও থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে দোষীদের ধরা হবে।

চন্দনবাবুর দাবি, এই বালি পাচারের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও যোগ নেই। তৃণমূল কাটমানি খায় না। কাটমানি খায় এলাকার বিজেপি নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, কুলটির ৩ নম্বর মণ্ডল বিজেপি নেতাদের নেতৃত্বে এই বালি পাচার চলছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি মণ্ডল সভাপতি অমিত গড়াই। তিনি বলেন, ‘আগেও তৃণমূলের সমর্থনে বালি পাচার চলত, এখনও তাঁদের নেতৃত্বে বালি পাচার চলছে।’ শুধুমাত্র এই এলাকা নয়, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের মদতে বালি প্রচার চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।