এশিয়ান হাইওয়ের পাশে অবাধে জমি দখল

145

সমীর দাস, জয়গাঁ : আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা থেকে জয়গাঁ যাওয়ার পথে এশিয়ান হাইওয়ের পাশে সরকারি জমি অবাধে দখলদারি চলছে। ওই জমিতে বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ, হোটেল, ট্রাক পার্কিং গড়ে উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন লক্ষ লক্ষ টাকায় সরকারি জমি বিক্রি হলেও কারও কোনও হেলদোল নেই। কেন প্রশাসনিকভাবে এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না সেই প্রশ্নও উঠেছে। ফোন না তোলায় জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনার প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কালচিনির বিডিও প্রশান্ত বর্মন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিককে ওই জমির মাপজোখ করতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।

পুরোনো হাসিমারা থেকে পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত জয়গাঁ যাওয়ার রাস্তার বাঁদিকের প্রায় সম্পূর্ণ এলাকা দখল করে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ঘর বানাচ্ছেন। আবার পেট্রোল পাম্প থেকে এশিয়ান হাইওয়ে হয়ে জয়গাঁ যাওয়ার রাস্তার ডানদিকের জমি দখল হয়ে বিলাসবহুল হোটেল, রেস্তোরাঁ, ধাবাও গড়ে উঠছে। এছাড়াও জমি দখল করে পাকা বাড়ি তৈরি হচ্ছে। দলসিংপাড়া পার করে জিএসটি মোড় পর্যন্ত একইভাবে রাস্তার পাশের জমি দখল করে রাতারাতি সুদৃশ্য হোটেল, দোকান, বাড়িঘর তৈরি হয়েছে। বড় বড় কয়েকটি ট্রাক পার্কিং হাবও তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, সেখানে ইচ্ছেমতো পার্কিং ফি আদায় চলছে।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে খবর, জমির কোনও বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও রাস্তার পাশের জমি দখল করে এক শ্রেণির দালালচক্র লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ওইসব জমি বিক্রি করছে। কোনও কোনও সময় এক জমি আলাদাভাবে পৃথক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। বছর দুয়েক আগে দলসিংপাড়া চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় জমিচক্রের পান্ডাদের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় হাসিমারার এক ক্রেতাকে জমির দালালদের হাতে খুনও হতে হয়। এরপরেও কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের হুঁশ ফেরেনি। এশিয়ান হাইওয়ে চালু হওয়ার পর থেকে হাসিমারা থেকে জয়গাঁ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে জমি দখল করে বিক্রির রমরমা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় দালালচক্র রাস্তার পাশের জমিতে খুঁটি পুঁতে তা দখল করছে। প্রতি বর্গফুট জমি ২০-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি চলছে। এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার কারবার চলছে। ওই সড়কের পাশে যেসব বিলাসবহুল হোটেল চালু হয়েছে সেখানে প্রশাসনিক আধিকারিকদের মাঝেমধ্যেই খাওয়াদাওয়া করতে দেখা যায়। এর বাইরেও প্রচুর গুমটি দোকান তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ওইসব দোকানে দেদার অবৈধ মদ বিক্রি চলে। বাইরে থেকে আসা ট্রাকচালকরা সেখানে চড়া দামে মদ কিনে খান। অসামাজিক কাজে লিপ্ত দুষ্কৃতীদের এলাকার হোটেল, ধাবাগুলিতে বেশিরভাগ সময় দেখা যায়। এরকম বেআইনিভাবে জমি বিক্রি রুখতে প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে বলে তণমূল যুব কংগ্রেসের কালচিনির সভাপতি রাজকমল ভগৎ দাবি জানিয়েছেন।