সরকারি জমি দখল করে বিক্রি খোলাচাঁদ ফাঁপড়িতে

227

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে পর্যটনমন্ত্রীর বিধানসভা এলাকায় সরকারি জমি দখল করে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, খোলাচাঁদ ফাঁপড়ি এলাকায় কয়েকজন জমি মাফিয়া অবাধে জমি দখল করে বিক্রি করে যাচ্ছে। কাঠাপ্রতি দুই থেকে পাঁচ লক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে জমি। তা বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছেন ওই নেতারা। এলাকায় থাকা একটি ঝোরাও বুজিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গোটা বিষয় নিয়ে শংকর তেলি, রাজেন্দ্র বল্লভ, প্রসন ছেত্রী, মনোজ পাল নামে চারজনের বিরুদ্ধে ভক্তিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু এরা প্রত্যেকেই শাসকদল ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি জমি উদ্ধারে ভক্তিনগর থানায় গণডেপুটেশনও দিয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি অভিযোগ গিয়েছে জেলাশাসক এবং বিডিওর কাছে। গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ গিয়েছিল। দুএকবার বিষয়টি নিয়ে সেখানে আলোচনা হলেও পরে সব চুপচাপ হয়ে যায়। গোটা ঘটনায় মোটা অঙ্কের টাকার খেলা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও জমির দালালরা কোনো দলের হয় না বলে মন্তব্য করেছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি রঞ্জন সরকার। তিনি বলেন, সরকারি জমি দখল করা যাবে না। সে যেই হোক পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি স্থানীয় বিধায়ককে বিষয়টি জানাব। কোথাও সরকারি জমি দখল করে অবৈধ নির্মাণ হলে ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, আমার কাছে পুরো তথ্য দিলে, পুলিশকে বলে সব ভেঙে দেওয়া হবে। রাজগঞ্জের ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক রূপক ভাওয়াল বলেন, ওই জমি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। সরকারি জমি কেউ দখল করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিছুদিন আগেই শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন পর্যটনমন্ত্রী। তাঁর বিধানসভা এলাকায় সরকারি জমি দখলের বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবেন বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। এরপরেও জমি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত কমেনি। শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানার ফাঁপড়ি এলাকার জঙ্গলমহল মৌজায় প্রায় ৯ বিঘা খাসজমি রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর ৩১১, প্লট নম্বর ৪। অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় জমি মাফিয়াদের একটি দল সক্রিয় হয়েছে। তারা ওই খাসজমির ভুয়ো নথি তৈরি করে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪ বিঘা জমি দখল হয়েছে বলে খবর। এ

- Advertisement -

জমি দখল করে ওই এলাকায় নির্মাণকাজ শুরু হতেই বাধা দেয় স্থানীয়রা। সেই সময় জমি মাফিয়াদের হুমকির মুখেও পড়তে হয় প্রতিবাদীদের। এরপর একাধিক জায়গায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয়রা। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। দিনের পর দিন দখলদারি বাড়তে থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হন এলাকার কয়েকজন। পুরো ঘটনায় ওই জমির উপরে ১৪৪ ধারা জারি করে আদালত। পাশাপাশি ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিকের কাছে জমির রিপোর্টও চেয়ে পাঠিয়েছেন বিচারক। অন্যদিকে, যাঁরা আদালতে আবেদন জানিয়েছেন তাঁদের উপরে যাতে কোনো আক্রমণ না হয় তা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভক্তিনগর থানার আইসিকে। ঘটনার তদন্তভার ভক্তিনগর থানার একজন সাব-ইন্সপেকটরকে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আদালতে মামলা হতেই মামলাকারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ। আদালতের চাপে দুদিন আগে এলাকায় পুলিশ এবং ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর থেকে এসে খোঁজখবর করলেও আদতে কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও ওই জমিতে অবাধে প্রাচীর দিচ্ছে জমি মাফিয়ারা। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।