অবৈধ তেলের কারবারে জতুগৃহ জয়গাঁ

প্রতীকী ছবি।

সমীর দাস, জয়গাঁ : অবৈধ জ্বালানি তেলের রমরমা বাজার হয়ে উঠেছে আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী শহর জয়গাঁ। জয়গাঁর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক, সর্বত্র প্রকাশ্যে জ্বালানি তেল বিক্রি হলেও প্রশাসনের তরফে এই ধরনের ব্যবসায় রাশ টানতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এইভাবে অবৈধ তেল বিক্রি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে তার প্রমাণ ফের একবার মিলেছে জয়গাঁ শহরে।

জয়গাঁ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া গুমটি দোকানে পেট্রোল, ডিজেলের মতো অতি দাহ্য তরল বিক্রি হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। ওই দোকানে কালীপুজো উপলক্ষ্যে প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল। দোকানের মালিক অসতর্ক হতেই আগুন লেগে যায় তাঁর দোকানে। দোকানের সঙ্গে লাগানো ঘরে থাকা ১৪ বছরের এক কিশোরী কবিতা শা (১৪) ওই আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায়। কালচিনি ব্লকের হাসিমারার এমইএস চৌপথি সংলগ্ন এলাকায় বছর খানেক আগেই এই ধরনের অবৈধ উপায়ে তেল মজুত করে রাখায় এক যুবকের বাড়িতে আগুন লাগলে ওই বাড়ির গৃহবধূ ও তাঁর দুই শিশুসন্তান ঘরের ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যায়। এর পরেও এই ধরনের অবৈধ তেল মজুতের বিরুদ্ধে প্রশাসন বড় কোনও পদক্ষেপ না করায় রবিবার জয়গাঁয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। অকালেই প্রাণ দিতে হল এক তরতাজা কিশোরীকে।

- Advertisement -

শুধু জয়গাঁতেই এই ধরনের অসাধু ব্যবসা সীমাবদ্ধ না থেকে কালচিনি ব্লকের বিভিন্ন এলাকা এমনকি আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বোতলে বিক্রি চলছে পেট্রোল, ডিজেল। অন্যদিকে জয়গাঁর মংলাবাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় বেশিরভাগ পানের দোকান ও ছোট দোকানের আড়ালে চলছে পেট্রোল, ডিজেল বিক্রি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনের আগে পর্যন্ত জয়গাঁ সহ কালচিনি, হাসিমারা, হ্যামিল্টনগঞ্জের জ্বালানি তেলের অবৈধ কারবারিরা ছোট-বড় তেলের কনটেনারে ভুটানের ফুন্টশোলিং শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে সস্তা দামে পেট্রোল নিয়ে এসে ভারতের বাজারমূল্যে সেই তেল বিক্রি করত। অনেকে আবার কিছুটা বেশি দামে ওই তেল বিক্রি করত ক্রেতাদের কাছে।

লকডাউনের পর ভুটান গেট বন্ধ হয়ে পড়ায় তেলের অসাধু কারবারিরা ভারতীয় পেট্রোল পাম্প থেকে পেট্রোল কিনে বাজারে বিক্রি করছে। প্রতি লিটার ১০০ থেকে ১১০ টাকা মূল্যে ওই তেল বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ আবার বেশি মুনাফার লোভে পেট্রোলের সঙ্গে কেরোসিন, ডিজেল মিশিয়ে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ। অবৈধ এই তেলের কারবার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে এপর্যন্ত বড় কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। আবার কনটেনারে কোনওভাবেই জ্বালানি তেল বিক্রি করা যাবে না, সরকারি এই নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেশ কিছু পেট্রোল পাম্প থেকেও কনটেনারে তেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ।

তবে তেলের এই অবৈধ কারবার বন্ধ না হলে কবিতার মতো কিশোরীরা ফের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যেতে পারে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের ধারণা তেলের এমন কারবার বন্ধ না হলে জতুগৃহে পরিণত হবে জয়গাঁ ও সংলগ্ন এলাকা। হাসিমারা দমকলকেন্দ্রের ফায়ার অফিসার গৌতম সাহা বলেন, রবিবার রাতে জয়গাঁয় আগুন লাগার ঘটনার তদন্ত পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খোলাবাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি নিষিদ্ধ। একমাত্র পেট্রোল পাম্পগুলিকেই দমকল বিভাগ উপযুক্ত পরিকাঠামো ও নথি যাচাইয়ে পর জ্বালানি তেল বিক্রির অনুমতি দিয়ে থাকে। পুলিশের তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।