জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা : মালদা শহরের সুকান্ত মোড় পর্যন্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। রাস্তার মাঝে ডিভাইডার রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ গাড়িই সেই ডিভাইডারের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও চার লেনের এই রাস্তার একটি অংশ দখল করে তৈরি হয়েছে অবৈধ পার্কিং জোন। দুধারের ১ ও ২ নম্বর লেনের মাঝের ডিভাইডারগুলি বহু জায়গায় উধাও। বাস ও ট্রাকগুলি চলছে নিজের খেয়ালখুশিমতো। ফলে রাস্তার দুইধার ধরে যাওয়া পথচারীদের অনেকে পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। এনিয়ে শহরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সমস্যার কথা জাতীয় সড়ক কর্তপক্ষের নজরে আনা হবে বলে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

শহরের যানজট এড়াতে তৈরি হয়েছে বাইপাস। যদুপুর থেকে তৃতীয় মহানন্দা সেতু হয়ে পুরাতন মালদার নারায়ণপুরের বাইপাস হয়ে দূরপাল্লার গাড়িগুলি বেরিয়ে যায়। শহরের মধ্যে দিয়ে শুধুমাত্র বাস, কিছু ট্রাক ও ছোট গাড়িগুলি যাতায়াত করছে। রবীন্দ্রভবন থেকে মঙ্গলবাড়ি রেলগেট পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে নতুন করে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। মঙ্গলবাড়িতে মহানন্দা সেতুর ওপর ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় মোড় ও কৃষ্ণপল্লি সাবওয়ে মোড়েও ট্রাফিক সিগন্যাল পোস্ট বসানো হয়েছে। যানজটের রাশ টানতে য়খন ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে, তখন রথবাড়ি মোড় থেকে সুকান্ত মোড় পর্যন্ত জাতীয় সড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থার বেহাল দশা।

- Advertisement -

মাঝের এই কয়েকশো মিটার রাস্তাতে নজরদারির তেমন ব্যবস্থা নেই। ফলে বাস ও লরিগুলি রেশারেশি করে ডিভাইডারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ২ নম্বর লেন দিয়ে আসা বাস বা লরিগুলি আগে যাওয়ার রেশারেশিতে ডিভাইডার পার করে চলে আসছে ১ নম্বর লেনে। কখনও ১ নম্বর লেন থেকে আচমকায় চলে যাচ্ছে ২ নম্বর লেনে। শুধু তাই নয়, রথবাড়ি থেকে সুকান্ত মোড়ের দুধারে তৈরি হয়েছে অলিখিত পার্কিং জোন। শহরে বিভিন্ন কাজে আসা মানুষ তাঁদের গাড়ি রাস্তার ওপরেই পার্কং করছে। সবকিছু দেখেশুনেও পুলিশ-প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। পুলিশের এই উদাসীনতায় যেকোনও মুহূর্তে বড়সড়ো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

মালদা শহরের ঝলঝলিয়া এলাকার বাসিন্দা বকুল বসাক বলেন, আমি প্রতিদিন সবজি বাজার করতে রথবাড়ি বাজারে যাই। সুকান্ত মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল থাকলেও কেউ মানে না। ট্রাফিক পুলিশই লালবাতি থাকাকালীন রাস্তা পারাপারের জন্য আমাদের ছেড়ে দেয়। দুধারের ২ নম্বর লেনে ভারী যানবাহন চলে বলে আমরা সাইকেল নিয়ে ১ নম্বর লেন দিয়ে যাতায়াত করি। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, ডিভাইডারের উপর দিয়ে ভারী যান চলাচল করছে। তখন বোঝা যায় না গাড়িটি ১ নম্বর লেনের দিকে উঠবে নাকি ২ নম্বরে যাবে। আমরা প্রাণ হাতে নিয়ে বাজারে যাই। আচমকায় গাড়িগুলি যেকোনও রাস্তায় ঢুকে যেতে পারে। কিছুদিন আগেই আমাদের পাড়ার এক ব্যক্তি সাইকেল নিয়ে বাজারে এসে রাস্তার মাঝখানে পড়ে যান। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচেছেন।

সত্যেন সরকার নামে রামকৃষ্ণপল্লি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমরা রামকৃষ্ণপল্লির স্কুল মাঠে আড্ডা দিই। আমরা দেখতে পাচ্ছি গাড়ির ধাক্কায় ডিভাইডারগুলি ক্রমেই ভেঙে যাচ্ছে। কারণ, তারা ডিভাইডার টপকে লেন পরিবর্তন করছে। অনেক জায়গায় ডিভাইডার উধাও হয়ে গিয়েছে। ফলে সাইকেল বা মোটর সাইকেল নিয়ে যাওয়া রাস্তার দুধারে অনেকে পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও শক্ত হওয়া প্রযোজন রয়েছে। এইসব গাড়িগুলি ধরে পুলিশ ফাইন করলে আইন ভাঙার প্রবণতা কমবে।

মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু এপ্রসঙ্গে বলেন, রথবাড়ি থেকে সুকান্ত মোড়ের ট্রাফিক সিস্টেম খুব খারাপ হয়ে গিয়েছে। রাস্তার উপরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি থাকছে। পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক। ডিভাইডারগুলি ভেঙে পড়েছে। ডিভাইডারগুলি যাতে তাড়াতাড়ি মেরামত করা হয়, সেই আবেদন জানিয়ে আমরা ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে একটা চিঠি দিচ্ছি। কারণ বাইপাস চালু হলেও শহরের ভেতরের ফোর লেন এখনও তাদের অধীনে রয়েছে। ট্রাফিক সিস্টেম আরও কঠোর করার জন্য ট্রাফিক ওসির কাছেও আবেদন জানাব।

এ প্রসঙ্গে মালদা জেলার ট্রাফিক ওসি তরুণ সাহার বক্তব্য, ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিকই আছে। জাতীয় সড়কের উপর অবৈধ পার্কিং নিয়ে আমরা আরটিও দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। জাতীয় সড়কের উপরেই অটো, টোটো, ম্যাজিক গাড়ির স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। সেগুলি তুলে ফেলা হবে। ডিভাইডারগুলি ভেঙে পড়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সেগুলি ঠিক করে দিলে গাড়িচালকদের ট্রাফিক নিয়ম ভাঙার প্রবণতা কমবে। আমরা ট্রাফিক নিয়ে তৎপর রয়েছি। শহর যানজটমুক্ত থাকবে।