মাথাভাঙ্গা, ২৬ মার্চঃ মহকুমা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশ অগ্রাহ্য করেই মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের জমিতে বেআইনি দোকানঘর তৈরি চলছে তৃণমূল কাউন্সিলারের মদতে। ভোটের দোহাই দিয়ে ওই জবরদখল উচ্ছেদে কোনো ব্যবস্থা নিতে চাইছে না মাথাভাঙ্গা পুরসভাও। পুরসভার চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক বলেন, এখন ব্যবস্থা নিলে তার প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে। অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলার নির্মলকুমার সাহা পালটা প্রশ্ন করেন, দীর্ঘদিন হাসপাতাল চত্বরে ব্যবসা করার পর উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা কোথায় যাবেন?

গত ১৪ মার্চ উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ হাসপাতালের জমি দখল করে দোকান শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতাল সুপার মাথাভাঙ্গা থানার আইসিকে চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি লেখেন, খুব শীঘ্রই হাসপাতালের জমিতে বেআইনিভাবে যে সকল দোকানঘর তৈরি হয়েছে সেগুলি ভেঙে দেওয়া হবে এবং সেসময় পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতা প্রযোজন। চিঠির প্রতিলিপি মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতাল রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, কোচবিহারের সিএমওএইচ সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়, মাথাভাঙ্গার মহকুমাশাসক শুভ্রজ্যোতি ঘোষ, মাথাভাঙ্গার এসডিপিও শুভেন্দু মণ্ডল, মাথাভাঙ্গা পুরপ্রধান লক্ষপতি প্রামাণিক এবং মাথাভাঙ্গা পুরসভার যে ওয়ার্ডে মহকুমা হাসপাতাল অবস্থিত সেই ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার নির্মলকুমার সাহার কাছে পাঠানো হয় বলেও হাসপাতাল সুপার জানান। যদিও হাসপাতালের জমি খুঁটি পুঁতে দখল করা এবং বেআইনি নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে জোরকদমে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জবরদখলকারীরা হাসপাতালের জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের জন্য নির্বাচনের সময়কেই বেছে নিয়েছে। দেখা যাচ্ছে মাথাভাঙ্গা শহরে বেআইনি নির্মাণ ও কার্যকলাপ অধিকাংশ নির্বাচনের সময় হয়ে থাকে। কারণ, নির্বাচনের সময় একদিকে যেমন প্রশাসনকে নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, পাশাপাশি শাসকদল ভোটের কথা মাথায় রেখে জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় না। বিরোধীরাও ভোট হারানোর ভয়ে জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলে না। এই সুযোগে প্রতিটি নির্বাচনের আগে মাথাভাঙ্গাজুড়ে জবরদখল ও বেআইনি নির্মাণ কার্যত নিয়মে পরিণত হয়েছে।কাউন্সিলার নির্মলবাবু বলেন, হাসপাতালের পরিত্যক্ত আবাসনগুলির পিছন দিকে অস্থায়ীভাবে হাসপাতালের ভিতর থেকে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের সাময়িক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যখন স্বাস্থ্য বিভাগের জমির প্রয়োজন হবে তখন ওই ব্যবসায়ীদের উঠে যেতে বলা হবে।

মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতাল রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা মাথাভাঙ্গার বিধায়ক ও রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনযকৃষ্ণ বর্মন হাসপাতালের জমি জবরদখল করা যায় না বলে মন্তব্য করলেও জবরদখল উচ্ছেদের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। মাথাভাঙ্গার মহকুমাশাসক শুভ্রজ্যোতি ঘোষ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেদিন বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবে সেদিন মহকুমা প্রশাসনের তরফে সবধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতাল সুপার ডাঃ দেবদীপ ঘোষ জানান, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে জবরদখল উচ্ছেদের দিন ঠিক করে পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো হবে।

এদিকে, মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতাল চত্বর থেকে উচ্ছেদ হওয়া সহিদুল মিয়াঁ, প্রদীপ বর্মনদের মতো ব্যবসায়ীরা জানান, হাসপাতালের ওপিডির সামনে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ব্যবসা করছেন। বারবার উচ্ছেদ করে দেওয়া হলেও পেটের তাগিদেই তাঁদের বসতে হয়েছে সেখানে। এবার উচ্ছেদ হয়ে হাসপাতলের পাশ দিয়ে যাওযার ড্রেনের পাশে অস্থায়ী দোকানঘর তৈরি করেছেন। এদিকে, হাসপাতালের ভিতর থেকে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরাই শুধু নন, শহরের বাইরে থেকে লোকজন এসেও খুঁটি পুঁতে হাসপাতালের জমি দখল করছে বলে অভিযোগ।