কোচবিহারে সারের কালোবাজারির অভিযোগ

195

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : সার নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ উঠল একশ্রেণির ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আধার কার্ডের নম্বর সহ পিওএস মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়ে কোনও কৃষককে সার কিনতে হবে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা সেই নিয়ম না মেনে সার নিয়ে কালোবাজারি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কালোবাজারি রুখতে প্রশাসনের তরফে মাঝেমধ্যেই সারের দোকানগুলিতে অভিযান চালানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলেই অভিযোগ। তাই ঘনঘন অভিযানের দাবি তুলেছেন লাইসেন্সধারী সার বিক্রেতারা। এ বিষয়ে জেলা কৃষি আধিকারিক অরুণ বসু বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনও কৃষক সার কিনতে গেলে তাঁকে আধার কার্ডের নম্বর ও আঙুলের ছাপ দিতে হবে। কোনও কোনও সার বিক্রেতা নিয়মবহির্ভতভাবে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে শীতলকুচিতে একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা মাঝেমধ্যেই অভিযান চালাচ্ছি।

সার নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ কম নয়। ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রির দাবিতে মাঝেমধ্যেই আন্দোলনে নামে কৃষক সংগঠনগুলি। সার কেনার ক্ষেত্রে সরকারিভাবে ভরতুকিও দেওয়া হয়। তবে সার বিক্রি ও মজুত নিয়ে যাতে কালোবাজারি না হয় সেজন্য বছর দুয়েক আগে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করা হয়। লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার বিক্রেতাদের কৃষি দপ্তরের তরফে পিওএস মেশিন দেওয়া হয়। কোচবিহার জেলায় প্রায় ১,৬০০ লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার বিক্রেতা রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই পিওএস মেশিন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার বিক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী যাদের লাইসেন্স নেই তারা ঘুরপথে কোম্পানিগুলি থেকে সার সংগ্রহ করে তা কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরা।

- Advertisement -

এক লাইসেন্সধারী সার বিক্রেতা জয়চাঁদ দাস বলেন, কৃষকরা সার কিনতে এলে তাঁদের আধার কার্ডের নম্বর ও আঙুলের ছাপ পিওএস মেশিনে দিয়ে রেজিস্টার করে সার বিক্রি করতে হবে। প্রথম অবস্থায় কৃষকদের এই বিষয়টি বোঝানো অনেক কঠিন ছিল। কারণ অনেক কৃষকই আধার কার্ড দিতে চাইতেন না। এখন খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। তবে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ঘুরপথে সার মজুত করে বেআইনিভাবে বিক্রি করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আরেক সার বিক্রেতা গৌরাঙ্গ সেন জানান, আধার কার্ড দিয়ে রেজিস্টার করে সার বিক্রি করাতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সরকারি ভরতুকি পেয়ে যায়। ফলে কালোবাজারি যাতে না হয় সেজন্য সরকারিভাবে রেজিস্টারের পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আমরাই সেই পদ্ধতি অবলম্বন করছি। তবে যাঁদের লাইসেন্স নেই তাঁরাও সার বিক্রি করছেন এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। সেই বিষয়টিও প্রশাসনের দেখা উচিত। একটি সার কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার কৌশিক মজুমদার বলেন, সার নিয়ে কোথাও যাতে কালোবাজারি না হয় সেজন্য আমাদের কোম্পানি থেকে আমরাও সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি করছি। সার বিক্রেতাদের নিয়ে কর্মশালা করা হয়েছে। এমনকি সচেতনতামূলক নাটক প্রদর্শন করা হয়েছে। সবাই যাতে কৃষকদের কাছ থেকে আধার নম্বর ও আঙুলের ছাপ নিয়ে সার বিক্রি করেন সেবিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।