নকশালবাড়িতে অবৈধ মদের রমরমা কারবার, পুলিশ ও প্রশাসন নির্বিকার

301

নকশালবাড়ি : ব্যাঙের ছাতার মতো নকশালবাড়ি বাজার এলাকায় অবৈধ মদের ঠেক গজিয়ে উঠেছে। এই অবৈধ মদের দোকানগুলি থেকে অবাধে মিলছে গাঁজা ও মাদকদ্রব্য। সব কিছু জেনেও পুলিশ ও প্রশাসন নির্বিকার বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে মাদক কারবারিদের দাপট কিছুটা কম হলেও নকশালবাড়িতে তারা অনেকটাই সক্রিয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে মাদক কারবারিরা নকশালবাড়ি বাজারকে পানিট্যাঙ্কি বাজারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ। নকশালবাড়ি থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বেই বাজারের পান ও চায়ের দোকান, হোটেলগুলিতে মদ, গাঁজা ও মাদক দ্রব্য খুব সহজেই পাওযা যাচ্ছে। নকশালবাড়ি এলাকায় মাদক কারবারিদের এই সক্রিয়তা স্থানীয় বাসিন্দাদের রীতিমতো উদ্বেগে ফেলেছে। রাতারাতি বড়লোক হওযার লোভে এলাকার যুবসমাজের একাংশ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ। পুলিশের একাংশ এই চক্র থেকে তোলা আদায় করে চলেছেন বলে অভিযোগ।

নকশালবাড়ি থানার অন্তর্গত এশিযান হাইওয়ে পাশে বেঙ্গাইজোত এলাকায় পেট্রোল পাম্পের পাশে, ঘাটানি মোড় এলাকায় অটোস্ট্যান্ডের পাশে পান ও চায়ে দোকানে, নকশালবাড়ি মাছ বাজারের  নীচের হোটেলগুলিতে, সিপিএম পার্টি অফিসের পাশে চায়ে দোকানে মদের ঠেকের রমরমা চলছে।  দেশি-বিদেশি সব ধরনের মদই মিলছে এখানে। এছাড়া নকশালবাড়ি রেলস্টেশনের সামনে কোটিয়াজোত যাওয়ার রাস্তায় বাতারিয়া সেতুর দুধারে বেশ কিছু হোটেল, চায়ের দোকান গজিয়ে উঠেছে। এই দোকানগুলির একাংশ মদ, গাঁজা ও মাদকদ্রব্য বিক্রির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। দিনভরই এই ঠেকগুলি সক্রিয় থাকে। সন্ধ্যা নামার পর ঠেকগুলির জৌলুস আরও বাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা নকশালবাড়ি অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি অমিত প্রসাদ বলেন, নকশালবাড়ি বাজারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পান ও চায়ের দোকানগুলিতে মদ ও গাঁজা বিক্রি হওয়ায় সন্ধ্যার পর বাজারটি সমাজবিরোধীদের হাতে চলে যায়। হোলির পরেই আমরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব। পানিট্যাঙ্কিতে জেলা পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে নকশালবাড়িতে এমনটা সম্ভব হচ্ছে না কেন?

- Advertisement -

অনেকের অভিযোগ, এই অবৈধ মদ কারবারিদের সঙ্গে রাজনৈতিক দাদাদের একাংশের মদত থাকায় পুলিশ চাইলেও কিছু করে উঠতে পারছে না। ফলে হোলিতে মাদক কারবারি ও মদ্যপদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এ বিষয়ে নকশালবাড়ি থানার ওসি সুজিত দাস বলেন, পানিট্যাঙ্কির পাশাপাশি নকশালবাড়িতেও অভিযান চালিয়ে গত বছর প্রায় ২২ জনকে ধরা হয়েছে। তারা সকলেই এখন জেলে রয়েছে। অবৈধ মদের ঠেকের ক্ষেত্রে আমরা জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠিয়েছি। গত বছর নকশালবাড়িতে ৩০ জনকে অবৈধ মদের ব্যবসায় ধরা হয়েছিল। আগামীদিনেও আমরা অভিযোগ পেলে অভিযান চালাব।জেলা পুলিশের ডিএসপি অচিন্ত্য গুপ্ত (গ্রামীণ) বলেন, আমরা মাদকদ্রব্য এবং অবৈধ মদের ঠেকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী দিনেও খবর পেলে এমন ধরনের অভিযান চালিয়ে যাব।