রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : মাটিগাড়ার তুম্বাজোত বেলডাঙ্গিতে সরকারি জমি এবং নদীর চর প্রতিদিনই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দালালদের একটি চক্র জমি প্লট করে কাঠা প্রতি দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকায় বিক্রি করছে। এভাবে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেন ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তণমূলের স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়ে সদস্য সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি এই চক্রে জড়িত রয়েেন। জমি বিক্রির টাকার ভাগ সিপিএমেরও একাধিক নেতা পেয়েছেন। ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত তণমূলের মাটিগাড়া পঞ্চায়ে সমিতির সদস্য কানাই সিং বলেন, আমি বিষয়টি জানার পরেই ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। আপাতত ওই এলাকায় জমি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে দলের কেউ এই জমি বিক্রির চক্রে জড়িত রয়েছে বলে আমার জানা নেই। মাটিগাড়ার ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক দুর্জয় রায় বলেন, আমরা একবার অভিযোগ পেয়ে ওই এলাকায় জমি বিক্রির অবৈধ কারবার বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবার এমন হয়ে থাকলে আমরা অফিসের কর্মীদের পাঠিয়ে তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তুম্বাজোতের বেলডাঙ্গির গা ঘেঁষে পঞ্চনই নদী গিয়েছে। এই নদী থেকে বেলডাঙ্গি, তুম্বাজোত সহ আশপাশের এলাকাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য দীর্ঘদিন আগে একটি বাঁধ দেওয়া হয়। বাঁধ থেকে নদীর প্রায় ৭০-৮০ মিটার দূরত্ব। এই এলাকাটি তুম্বা এবং উজানু মৌজার অন্তর্ভুক্ত। বাঁধ এবং নদীর মাঝখানের এলাকাটা বিক্রি করে দিচ্ছে জমি মাফিয়াদের চক্র। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্লট করে জমিগুলি বিক্রি হয়েছে। এমনকি বাঁধের দুপাশও বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু জমিতে ইতিমধ্যেই বসতি গড়ে উঠেছে। বাসিন্দাদের অনেকে জানিয়েছেন, তাঁরা স্থানীয় দালালদের কাছে কাঠাপিছু দেড়-দুই লক্ষ টাকা দরে জমি কিনেছেন। জমির কাগজপত্র কিছুই নেই। তবে, পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জমি বিক্রির চক্রের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বড়ো অংশের যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।

মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য স্থানীয় কিশোর দাসও এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন। বিতর্কিত ওই জমি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বেই কিশোরবাবুর বাড়ি। তাঁর দোতলা বাড়ির চারদিকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন একজন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের এত টাকা আসে কোথা থেকে? এখানে যেভাবে বছরখানেক ধরে জমি বিক্রি হচ্ছে তাতে কম করে হলেও প্রায় কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে এই চক্রটি।

কিশোরবাবু অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এভাবে জমি বিক্রির কোনো কিছুই আমি জানি না। কিছু জমি বিক্রি হয়েছে, কিন্তু সেগুলির খতিয়ান রয়েছে। আর এসবের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই যুক্ত নই। অযথা আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে সিপিএমের বিরুদ্ধেও। দলের একাংশ এই চক্রের কাছ থেকে সুযোগসুবিধা নেন বলে খবর। তবে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি সিপিএমের তাপস সরকার বলেন, আমাদের দলের কেউ এই অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত নেই। আমি জমি বিক্রির চক্র নিয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি। সেটা তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি।