কুলিক-নাগরের বুকে দাপাচ্ছে বালি মাফিয়ারা

229

বিশ্বজিত্ সরকার, রায়গঞ্জ : দিনের আলোয় কুলিক ও নাগর নদীর বুক থেকে ট্রলি ট্রলি বালি পাচার হয়ে যাচ্ছে। হেমতাবাদের বাগরোল ঘাটে কুলিক নদী থেকে মাফিয়ারা বালি তুলে দেদার চোরাকারবার চালাচ্ছে। একইভাবে রায়গঞ্জের জগদীশপুর পঞ্চায়েতের নাগর থেকেও দেদার বালি পাচার চলছে। বালি মাফিয়ারা অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে নদী থেকে বালি তুলে ডাম্পার, ট্র‌্যাক্টর ও বস্তায় ভরে ঠেলা করে জেলার বিভিন্ন জায়গায় সেই বালি পৌঁছে দিচ্ছে। দিনের পর দিন এভাবে বালি পাচার হলেও প্রশাসন নির্বিকার বলে অভিযোগ উঠছে। বালি মাফিয়াদের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পান। এদিকে, নদী থেকে বেআইনিভাবে দেদার বালি তোলার ফলে বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে বাঁধ ভেঙে গোটা গ্রাম ভেসে যেতে পারে।

 বালি মাফিয়াদের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা নাগর ও কুলিক নদী থেকে বছরের পর বছর একই ভাবে বালি চুরি চলছে। এর পেছনে শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের মদত রয়েছে। বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। অবাধে বালি তোলার ফলে গ্রাম লাগোয়া নদীবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এজন্য আমরা বড় ক্ষতির আশঙ্কায় আছি। বিজেপি জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ি বলেন, ওই এলাকার এমন কাজের বিষয়টি আগেও শুনেছি। শাসকদলের মদতেই এই কাজ বছরের পর বছর হয়ে আসছে। কাটমানির বিনিময়ে এমন কাজের অনুমতি দেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। সমস্ত অবৈধ কাজটি দিনের আলোতে হলেও প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয় না। উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের তৃণমূলের দলনেতা তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পূর্ণেন্দু দে বলেন, বালি মাফিয়ারা কোনও দলের হয় না। আমাদের দলেও কোনও বালি মাফিয়ার জায়গা নেই। আমি ওই এলাকায় মাঝেমধ্যেই যাই। তবে এমন অভিযোগ এখনও কেউ করেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আমি যত দ্রুত সম্ভব ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলব।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ ব্লকের ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক রাজীব গোস্বামী বলেন, আমাদের কাছে এমন অভিযোগ এখনও এসে পৌঁছায়নি। তবে আমার কাছে অভিযোগ এলেই পদক্ষেপ করব। আমি নতুন এসেছি, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। রায়গঞ্জ ব্লকের জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খাঁড়ি জগদীশপুর এলাকায় ও হেমতাবাদ ব্লকের ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন বাগরোল ঘাটে দিনের পর দিন নাগর ও কুলিক নদী থেকে বালি চুরির ঘটনা ঘটছে। অত্যাধুনিক পাম্পসেট ব্যবহার করে নদী থেকে বালি তোলা হয়। সেই বালি পরে ট্র‌্যাক্টর ও ডাম্পারে ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চড়া দামে সেগুলি বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার এ থেকে কোনও রাজস্ব পাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে যেভাবে বালি তোলা হয় তা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অবৈজ্ঞানিক। দিনের পর দিন এভাবে বালি তোলার কারণে গ্রাম সংলগ্ন নদী বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে। যদি এভাবেই কাজ চলতে থাকে তবে আগামীদিনে বেশি বৃষ্টি হলে বাঁধ ভেঙে গ্রাম ভেসে যেতে পারে। এদিন বাগরোল ঘাটে গিয়ে দেখা গেল অবাধে একের পর এক ট্র‌্যাক্টর বালি বোঝাই করে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া বিএসএফ ক্যাম্পে বালি সরবরাহ করা হচ্ছে। ছবি তুলতে গেলেই বাধা দেওয়া হয়। ট্র‌্যাক্টর চালকদের বক্তব্য, আমরা কুলিক নদী থেকে বালি নিয়ে হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় বালি সরবরাহ করি। ঠাকুরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা তাপস সরকার বাগরোল ঘাটে বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাপসবাবুর বক্তব্য, রীতিমতো পুলিশ ও ভূমিসংস্কার দপ্তরকে টাকা দিয়ে এই কাজ করছি। রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন,বিষয়টি নিয়ে আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে হেমতাবাদের বিডিও পৃথ্বীশ দাস এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।