অবাধে বালি লুঠে সেতু ভাঙার শঙ্কা মহানন্দায়

100

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : একদিকে গ্রিন সিটি মিশনের আওতায় মহানন্দার চারপাশে চলছে সৌন্দর্যায়নের কাজ, অপরদিকে সেতুর পিলারের ২০০ মিটারের মধ্যে অবাধে বালি-পাথর তুলে নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি শিলিগুড়ির এয়ারভিউ মোড় সংলগ্ন মহানন্দা সেতুর। নজর নেই প্রশাসনের। যদিও শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে বলব।

এয়ারভিউ মোড় সংলগ্ন মহানন্দা নদী থেকে বালি-পাথর তোলার কোনও সরকারি অনুমতি নেই। অথচ ওই এলাকায় পিলারের ২০০ মিটারের মধ্যে অবাধে খনন করে বালি-পাথর তোলা হচ্ছে। নদীর চরে যাঁরা অবৈধভাবে নির্মাণ তৈরি করে থাকছেন, তাঁরাই জায়গায় জায়গায় গর্ত খুঁড়ে সেখান থেকে বালি, বজরি তুলছে বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

নদী থেকে বালি-বজরি তুলে এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে। তারপর ভ্যানে করে তা বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ভ্যান প্রতি ২০০ টাকা বালি এবং ২৫০-৩০০ টাকা বজরি বিক্রি করা হচ্ছে। গর্তগুলি ভরাট করতে এলাকায় থাকা খাটালের গোবর ফেলা হচ্ছে। আর এই গর্তে যদি কেউ পড়ে যান, তাহলে তাঁর পক্ষে বেঁচে ফেরা অসম্ভব। দিনের পর দিন এমন কাজ চললেও পুরনিগম কিংবা পূর্ত দপ্তর, কারও কোনও নজরদারি নেই। অথচ ওই এলাকাতেই পুরনিগমের তদারকিতে গ্রিন সিটি মিশনের আওতায় সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে।

যে কোনও সেতুরই ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে বালি-পাথর তোলা নিষিদ্ধ। সেচ দপ্তরের বাস্তুকারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেতুর পিলারের ২০০ মিটারের মধ্যে বালি-পাথর তোলা হলে নদীতে জল বাড়লে পিলারের চারপাশের মাটি ধসে গিয়ে পিলার বসে যেতে পারে। ফলে যে কোনও সময়ে সেতুতে বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাছাড়া সেতুতে বিপর্যয় ঘটলে শিলিগুড়ি জংশনের দিক থেকে এয়ারভিউ মোড়ের দিকে যেতে সাধারণ মানুষকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে মাটিগাড়া কিংবা সেবক রোড হয়ে যাতায়াত করতে হবে।

এদিকে, এই নিয়ে কয়েকদিন আগে মহানন্দা বাঁচাও কমিটি জেলা শাসককে স্মারকলিপি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তথা সমাজসেবী জ্যোৎস্না আগরওয়াল বলেন, এভাবে চললে যে কোনও দিন সেতু ভেঙে যাবে। আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। পূর্ত দপ্তর বলেছে ওই গর্তগুলি ভরাট করে দেবে।

এ ব্যাপারে সেচ দপ্তরের বাস্তুকার বলেন, কোনও সেতুর স্তম্ভ থেকে ২০০ মিটার এলাকা পূর্ত দপ্তর দেখে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। তবে ওই এলাকা থেকে কোনওভাবে বালি-বজরি তোলার অনুমতি নেই। কেউ এই কাজ করলে নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।