ডুয়ার্সের বাজার ছেয়েছে ভুটানের ঠান্ডা পানীয়ে

233

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি, জুলাই : গরম যত বাড়ছে ততই বাজারে বাড়ছে বিভিন্ন নামি ব্র‌্যান্ডের কোল্ড ড্রিংকসের চাহিদা। আর সেই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছেন ভুটানে তৈরি পরিচিত ব্র‌্যান্ডের কোল্ড ড্রিংকস।

প্রতিবেশী দেশ ভুটান সংলগ্ন গোটা ডুয়ার্সজুড়েই এই ঠান্ডা পানীয় রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ভুটানে তৈরি এই ঠান্ডা পানীয় এদেশে তৈরি ওই একই ব্র‌্যান্ডের পানীয়ে থেকে স্বাদে অনেকটাই আলাদা। এই কোল্ড ড্রিংকসের কারণে বড়ো অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে এদেশের। এদিকে, তিনগুণ লাভের আশায় দোকানদাররাও খুব সহজেই বিক্রি করতে রাজি হচ্ছেন এই পরিচিত ব্র‌্যান্ডের বিদেশি কোল্ড ড্রিংকস।

এদেশে তৈরি কোল্ড ড্রিংকসের বিক্রি থেকে ১৪ শতাংশ করে মোট ২৮ শতাংশ জিএসটি পায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। এছাড়া কেন্দ্রীয় সেস বাবদ আরও ১২ শতাংশ পায় সরকার। এরপর কোম্পানি অনুসারে পাইকারি বিক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটাররা ২ থেকে ৩ শতাংশ এবং খুচরো বিক্রেতারা ৬ থেকে ৮ শতাংশ লভ্যাংশ পান। কিন্তু ভুটান থেকে চোরা পথে নিয়ে আসা ঠান্ডা পানীয় বিক্রি করে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লাভ করছেন খুচরো বিক্রেতারা। সেইসঙ্গে জিএসটি এবং সেস বাবদ যা এদেশে বাদ দিতে হয় সেই হিসেব জুড়লে প্রায় ৩০ শতাংশ বা তার বেশি মুনাফা করছেন বাজারে ভুটানের কোল্ড ড্রিংকস ছড়িয়ে দেওয়া পাইকারি মজুতদাররা।

এমনিতে দেখতে এক হলেও এদেশে তৈরি আর ভুটান থেকে আনা একই ব্র‌্যান্ডের কোল্ড ড্রিংকস চেনার কিছু সহজ উপায় রয়েছে। প্রথমত, বোতলের গায়ে লেখা র‌্যাপারে নির্মাতার নাম যা কোল্ড ড্রিংকসের ক্ষেত্রে খুব একটা লক্ষ করে না প্রায় কেউই। দ্বিতীয়ত, ভুটানে তৈরি কোল্ড ড্রিংকসের ছিপি এদেশে তৈরি একই ব্র‌্যান্ডের বোতলের ছিপি থেকে হয় রং না হয় ডিজাইনে কিছুটা আলাদা। তৃতীয়ত, এমনিতেই ঠান্ডার দেশ বলে ভুটানে তৈরি কোল্ড ড্রিংকসে এদেশের চাইতে ঝাঁঝ অনেকটাই কম। চতুর্থত, ব্র‌্যান্ড এক হলেও দুই দেশে কোল্ড ড্রিংকসের বোতলের মাপ আলাদা। এদেশে যে যে ভ্যারাইটির সাইজে কোল্ড ড্রিংকসের বোতল পাওয়া যায় তা ওদেশ থেকে অনেকটাই আলাদা।

তবে, শুধু সরকারি রাজস্ব ফাঁকিই নয়, বিদেশ থেকে নিয়ে আসা এই ঠান্ডা পানীয় এদেশের বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে এদেশের ব্যবসায়ীদেরও। একটি বহুজাতিক ঠান্ডা পানীয় নির্মাতা সংস্থার ডিস্ট্রিবিউটার সুমন সাহা বলেন, ভুটান থেকে নিয়ে এসে এখানকার বাজারে এই পানীয় ছড়িয়ে দেওয়ায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। সেইসঙ্গে আমাদেরও বিক্রি মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাছাড়া ওদেশের কোল্ড ড্রিংকসের স্বাদ এদেশের তুলনায় অনেকটাই আলাদা এবং ঝাঁঝ কম থাকায় ক্রেতাদের মধ্যেও ওই ব্র‌্যান্ডের সম্পর্কে খারাপ ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা কোম্পানির বড়ো ক্ষতি। তবে সবথেকে বড়ো কথা এই কোল্ড ড্রিংকস বাজারে ছেয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা যাঁরা এদেশের কর সহ দাম দিয়ে ভিনদেশি কোল্ড ড্রিংকস কিনছেন ভেতরের খবর না বুঝেই।

এক খুচরো বিক্রেতা জানালেন, দোকানে এসে মাল পৌঁছে দিলেও ভুটানের কোল্ড ড্রিংকসের জন্য কোনো ট্যাক্স ইনভয়েস মেলে না । তবে, লাভ অনেক বেশি থাকায় আমরা বিক্রি করি। এমনিতে কোল্ড ড্রিংকসের চাহিদাটা মূলত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্তই বেশি থাকে। ফলে গরমে কেউ অত খুঁটিয়ে দেখে বোতল কেনেন না। এই কারণে খুব সহজেই এদেশের কোল্ড ড্রিংকসের সঙ্গে ভুটান থেকে আনা পানীয়া বিক্রি করে দেওয়া যায়।

এই কারবার নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন জেলার পুলিশ কর্তারা। তাঁদের মতে, লুকিয়ে ভুটান থেকে আনা মদের মতো এটাও দেশের রাজস্ব ক্ষতি করছে যা বেআইনি কাজ। তাছাড়া সাধারণ মানুষ এর ফলে প্রতারিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা খোঁজ নেবেন এবং প্রয়োজনে যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।