মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : নকশালবাড়িতে এশিয়ান হাইওয়ে-২এর পার্শ্ববর্তী জমি অবাধে লুট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্লকের অটল বাজার, বিরসা মুন্ডা হিন্দি কলেজ ও জনতা কাঠমিলের সামনের অংশ, হাতিঘিসা ও রথখোলা সহ বেশ কিছু এলাকায় এই ছবি দেখা যাচ্ছে। জায়গা দখল করে নতুন নতুন দোকান তৈরি হচ্ছে। বছর তিনেক আগে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই দখলকারীদের উচ্ছেদ করা হলেও এশিয়ান হাইওয়ে জায়গা ফের দখল হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নজরে থাকলেও ভোটব্যাংকের দরুন কেউ দখলদারদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে রাজি নয় বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবশ্য এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

এশিয়ান হাইওয়ে-২এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর জিতেন্দ্ররকুমার প্যাটেল বলেন, আমরা মাঝেমধ্যেই অভিযান চালিয়ে এশিয়ান হাইওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করে থাকি। আগামীদিনে আরও অভিযান চালানো হবে। ওই জায়গাগুলি অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হলেও আমরা চলে আসার পর সেগুলি ফের দখল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, সরকারি জায়গা দখল হয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। যার ফলে এশিয়ান হাইওয়ের জায়গাগুলি বারবার দখল হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অটল বাজার থেকে পানিট্যাঙ্কি বাজার পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ের দুপাশের পার্শ্ববর্তী জমিগুলি বহুদিন ধরেই দখল হয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছু জায়গায় দখল করা এই জমিতে ছোটোখাটো হোটেল গজিয়ে উঠেছে। এশিয়ান হাইওয়ের পাশে থাকা এই হোটেলগুলিতে লুকিয়ে মদ বিক্রিও চলছে বলে অভিযোগ। তবে হঠাত্ করে অনেকটা জায়গা দখল না করে একটু একটু করে করা হয় বলে সেভাবে নজরেও পড়ে না। প্রথম দিকে দুই থেকে চারটি খুঁটি পুঁতে জমি দখল করা হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে খুঁটির সংখ্যা বাড়িয়ে সেগুলির উপর পাটাতন বসিয়ে দোকানঘর তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া, নকশালবাড়ি জনতা মিল সংলগ্ন এলাকায় বাঁশের বেড়া দিয়ে এশিয়ান হাইওয়ের জায়গা দখল করা হচ্ছে বলে অভিয়োগ। নকশালবাড়ি ব্লকের অটল বাজার থেকে পানিট্যাঙ্কি বাজার পর্যন্ত বেশ কিছু জায়গায় এভাবেই জমি দখল চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি বেঙ্গাইজোত পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে একটা বড়ো অংশ দূরপাল্লার পণ্যবাহী লরিগুলি দখল করে থাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।

নকশালবাড়ি থেকে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি পর্যন্ত ২ নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতে দিনরাতে দূরপাল্লার লরিগুলি দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা কাঞ্চিয়া বর্মন জানান, সপ্তাহখানেক আগে এই এলাকায় একটি দুর্ঘটনায় এক শিক্ষক মারা যান। এনিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। নকশালবাড়ির বিডিও বাপি ধর বলেন, যাঁরা জমি দখল করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ নকশালবাড়ি থানায় অভিয়োগ দায়ে করুক। তবেই দুষ্কৃতীরা সচেতন হবে। বেঙ্গাইজোত এলাকায় লরিগুলি দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি নকশালবাড়ি থানার ওসিকে জানাব, যাতে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।