হাসপাতাল চত্বরেই অবৈধ দোকান, নির্বিকার প্রশাসন

119

রায়গঞ্জ: ফের রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরেই রাতারাতি গজিয়ে উঠছে অবৈধ দোকানপাট। আর এই দখলদারদের পেছনে শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের একাংশ রয়েছে বলে অভিযোগ। তাদের মদতেই এই দোকানপাটগুলি গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ। হাসপাতালে যাতায়াতের পথে এমনকি হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় যত্রতত্র দোকানপাটগুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় হাসপাতাল অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি এই সব দোকানপাট থেকে খাবার খেয়ে সংক্রমণ ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মী মহলের।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে ইতিপূর্বে ওই বেআইনি দখলদারদের সরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। তাতে কিছুটা সফল হলেও, পরবর্তীতে ফের এই শাসকদলের মদতে দোকানপাট যত্রতত্র গড়ে ওঠে। এরফলে হাসপাতালের সুস্থ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেই বিভিন্ন মহলেই অভিযোগ ওঠে। রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হাসপাতালে নির্দিষ্ট জায়গায় একটি ক্যান্টিন রয়েছে, তা সত্ত্বেও যেখানে-সেখানে চা পান, এমনকি নেশার সামগ্রী নিয়ে রাতারাতি দোকানপাট গড়ে তুলেছেন কিছু কারবারি। আর সেই কারবারিরা রীতিমতো সেখানে কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই বলছেন পেছনে রাজনৈতিক দাদাদের মদত থাকায় কেউ তাদের উচ্ছেদ করতে পারবে না।

- Advertisement -

এদিন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা এক রোগীর আত্মীয় জানান, হাসপাতালের ক্যান্টিনের খাওয়ারের দামের চাইতে এই দোকানগুলিতে দাম যথেষ্ট কম। সুতরাং পকেটের কথা ভেবে এই দোকানগুলিতেই আসা।অন্যদিকে, জায়গা দখল করার প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে মিনতি রায় নামে এক দোকানি জানান, তাঁর স্বামী বছর তিনেক আগে মারা গিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর এই দোকানই একমাত্র আয়ের উৎস। সুতরাং দোকানটির কিছু হলে না খেয়ে মরা ছাড়া আর উপায় থাকবে না। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কখনও কাউকেই উচ্ছেদ করতে পারে না। যা করার জেলা প্রশাসন করবে।যদিও রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান তথা রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, ‘হাসপাতাল চত্বরে বেআইনি দোকানপাট কোনভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।’