অগ্নিকাণ্ডে হুঁশ ফেরেনি, হাসপাতাল চত্বরেই বস্তি

199

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : বস্তি থেকে হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বেশ কয়েক বছর কেটে গেলেও বস্তি সরানো নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। ফলে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেই চলছে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের পরিষেবা। কলকাতায় আমরি হাসপাতালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কিছুদিন পরই ইসলামপুর হাসপাতালের গা ঘেঁষে থাকা বস্তিতে আগুন লাগে। রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে রোগীদের হাতে স্যালাইনের বোতল নিয়ে দৌড়াতে হয়েছিল। সেই সময় এলাকার নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা ওই বস্তি সরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এত বছরে সেই আশ্বাস ঠান্ডা ঘরে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে হাসপাতাল সুপার ডাঃ নারায়ণ মিদ্যাকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেযারম্যান কানাইয়ালাল আগরওযাল সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন।

ইসলামপুর হাসপাতাল চত্বরের ভিতরে মূলত সাফাইকর্মীদের একাংশের ঘিঞ্জি ঘর রয়েছে। কমপক্ষে ৩০টি পরিবার নিয়ে এই বস্তি। এই সাফাইকর্মীরা সকলেই যে সরকারি সাফাইকর্মী তা নন। তবে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতাল চত্বরের ওই বস্তিতেই বসবাস করেন। এমনও অভিযোগ রয়েছে, ওই বস্তিতে বসবাসকারী অনেকেরই শহরের অন্যত্র নিজের বাড়ি রয়েছে। কিন্তু জবরদখল ছাড়তে তাঁরা রাজি নন। যদিও আগুন লাগার পর অন্যত্র জমির ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে জবরদখল ছেড়ে দেবেন বলে রাজি ছিলেন সাফাইকর্মীরা। কিন্তু জমিজটের কারণে সেই প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে। গোটা বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। ফের ওই চত্বরে নতুন করে বস্তি গজিয়ে ওঠে। বর্তমানে হাসপাতালের আউটডোরের গা ঘেঁষে বস্তি রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আবার যদি সেই অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হয়, সেক্ষেত্রে দায় কে নেবে? বস্তির প্রতিটি ঘরেই রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার। এছাড়া হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফের আগুন লাগলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার নিতে পারে। বস্তিবাসীদের বক্তব্য, আমাদের অন্যত্র জমির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওযা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পালন করা হয়নি। ফলে আমরা একপ্রকার নিরুপায়। কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, হাসপাতাল চত্বরের বস্তি যে বিপজ্জনকভাবে রয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। আসলে জমিজটের কারণে বস্তিটি সরানো যাচ্ছে না। তবে জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে শীঘ্রই যাতে বস্তি হাসপাতাল চত্বর থেকে সরানো যায় সেই বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ করব।

- Advertisement -