খাসজমিতে উপনগরী হাঁসখোয়ায়, চাঁদমণির জমি দখল

109

খোকন সাহা, বাগডোগরা : বাগডোগরার অদূরে হাঁসখোয়া চা বাগানের একটি অংশে চা গাছ ও ছায়াগাছ উপড়ে ফেলে সেখানে উপনগরী গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বাগানে প্রায় ২২.৬৬ একর খাসজমি রয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বিহারের একটি সংস্থা এখানে প্লট করে প্রতি কাঠা জমি ৮-১০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা শুরু করেছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, জমি মাফিয়ারা চাঁদমণি চা বাগানের জমি দখল করে তা নিজেদের নামে রেকর্ড করে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই ৮৩ জনের নামে ১১.৮২ একর জমি রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। এই চক্রের পান্ডারা জমির নকল কাগজপত্র বানিয়েছে। তা দেখে ক্রেতারা ওই জমি কিনে সেখানে পাকা ঘরবাড়ি তৈরি শুরু করেছেন। প্রশাসন সবকিছু দেখেও চুপ করে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাঁসখোয়া চা বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের রেকর্ড করা জমিতে উপনগরী গড়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে জিতেন্দ্রকুমার মাহাতো বলেন,  আমরা যেখানে উপনগরী গড়ছি সেখানে দুই-তিন একর খাসজমি রয়েছে। ওই জমির লিজের জন্য আমরা আবেদন করেছি। যে সময়ে এই বাগানে উপনগরী গড়ার কাজ শুরু হয় তখন ললিত থাপা ফাঁসিদেওয়া ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক ছিলেন। তিনি অবশ্য বলছেন, যে অংশে কাজ হচ্ছে সেখানে প্রায় ২২.৬৬ একর খাসজমি রয়েছে। এই সূত্রেই বাগান কর্তৃপক্ষ ও বিহারের সংস্থাটির দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহমজুমদার বলেন, লিজের জন্য আবেদন করা হয়েছে কি না জানা নেই। তবে বাগানের যেখানে গাছ কাটা হচ্ছে সেখানে নতুন করে গাছ লাগানো হচ্ছে কি না দেখতে হবে।

- Advertisement -

চাঁদমণি চা বাগানের ম্যানেজার নারায়ণচন্দ্র দেব বলেন, বাগানের জমি দখলের বিষয়টি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির কপি পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে দেওয়া হয়েছে। মাটিগাড়ার ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুবিমল চক্রবর্তী বলেন, কিছুদিন আগে এখানে বদলি হয়ে এসেছি। তবে চাঁদমণি চা বাগানের জমি দখল নিয়ে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করেছে বলে জানতে পেরেছি। দুটি ঘটনার বিষয়ে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুমন্ত সহায়ের সঙ্গে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করা হলেও করা যায়নি। বহুবার বেজে গেলেও তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজ পাঠালেও কোনও জবাব দেননি।

হাঁসখোয়া চা বাগানের বেশ কিছুটা অংশ বর্তমানে টিন দিয়ে ঘিরে চা গাছ ও ছায়াগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। শ্রমিকদের খুশি রাখতে সেই চা গাছ ও ছায়াগাছ তাঁদের উপহার হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট অংশে প্রাচীর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বাগানের মাঝে অফিসঘর তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, উপনগরীতে আবাসনের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ থাকবে। কিন্তু খাসজমি দখল করে সবুজ ধ্বংসের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, সবাইকে খুশি রাখতে চা শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় সংগঠন থেকে শুরু করে প্রশাসনের একটি অংশকে হাত করা হয়েছে। অন্যদিকে, চাঁদমণি চা বাগানের ঘটনায় কারবারিরা যে সমস্ত জমির নথি অনলাইনে নথিভুক্ত করা নেই সেগুলিকে তাদের টার্গেট করেছে। নিজেদের নামে জাল নথি তৈরি করে এই কারবারিরা সেগুলিকে বিক্রি করে দিচ্ছে। অভিযোগ,  গৌচরণ মৌজা, ধুকুরিয়া মৌজা, বারোঘরিয়া মৌজার চা বাগানের জমিও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। চামটা নদীর চর বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।