বসতবাড়ির আড়ালে গুদাম, কড়া হচ্ছে ধূপগুড়ি পুরসভা

157

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : ২০০২ সালে পুরসভা গঠন হওযার পর গত ১৮ বছরে ধূপগুড়ি শহরের মূল বাণিজ্যিক এলাকাগুলি ছাড়াও পুর এলাকার অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় দোকান এবং গোডাউন। এর বেশিরভাগই চলছে ডোমেস্টিক বা বসতবাড়ির রাজস্ব দিয়ে, ফলে ক্ষতি হচ্ছে রাজস্ব আদায়ে। গলিপথে গড়ে ওঠা এইসব দোকান এবং গোডাউন থেকে যা রাজস্ব পুরসভার পাওযার কথা, বাস্তবে তার সিকিভাগও মেলে না। শুধু রাজস্ব ক্ষতিই নয়, প্রতিনিয়ত এই গোডাউন ও দোকানগুলোয় মাল ওঠানামার জন্যে ভারী পণ্যবাহী লরি চলাচলের কারণে ক্ষতি হচ্ছে শহরের রাস্তারও। বিষয়টি নিয়ে এতদিন মাথা ঘামায়নি ধূপগুড়ি পুরসভা। নেওযা হয়নি কড়া অবস্থানও। এখন বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন পুরকর্তারা। রাস্তা ক্ষতির জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ বছরে ধূপগুড়ি শহরে বাড়ি ও গোডাউনের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। সম্প্রতি শহরের গুজজার চক এলাকায় একটি গোডাউনে মাল খালাস করতে যাওয়া লরির জন্যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ওই এলাকার রাস্তার। এ নিয়ে দীর্ঘসময় গাড়িটি আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নজরে আসে পুরসভা এবং পুলিশের। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এবং পুরকর্তাদের হস্তক্ষেপে গাড়ি ছাড়া পেলেও মেরামত হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত সদ্য নির্মিত রাস্তা। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা অসীমকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই ম্যাস্টিক পথটি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এর উপর দিয়ে বিশাল পরিমাণ লোড নিয়ে ভারী লরি চলাচল করে। এর ফলে আমাদের এলাকার রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছে। আমরা পুরসভাকে বিষয়টি জানিয়েছি। পুরসভা আবাসিক এলাকা থেকে এই গোডাউনগুলি তুলে না দিলে আগামীদিনে এলাকাবাসীরা এসব বন্ধ করে দেবেন বলে হুমকি দেন তিনি। পুরসভার তরফে অবশ্য বিষয়টি কড়াভাবে দেখা হচ্ছে বলেই জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরে যত্রতত্র গজিযে ওঠা এইসব গোডাউনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পুরসভা। ধূপগুড়ি পুরসভার উপপুরপ্রধান রাজেশকুমার সিং বলেন, রাজস্ব এবং রাস্তার ক্ষতির বিষয়টি আমাদের চিন্তায় ফেলেছে। কোথাও গোডাউনে মাল ওঠানামার ফলে রাস্তার ক্ষতি হলে পূর্ত বিভাগ ক্ষতির পরিমাপ হিসেব করছে। সেই ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর থেকে আদায় করে রাস্তা মেরামত করা হবে। শহরের অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা গোডাউনগুলির বিষয়ে আগামী বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ঘরগুলি থেকে কী পরিমাণ রাজস্ব আদায় হচ্ছে তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেন রাজেশবাবু।

- Advertisement -