শিলিগুড়ি শহরের স্পা-এর আড়ালে মধুচক্র

5992

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের বিরুদ্ধে এখনও শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এরই মাঝে শহরের বুকে প্রকাশ্যে স্পা-এর আড়ালে মধুচক্র চলছে। প্রথম দিকে চুপচাপ চললেও, লকডাউনের পর থেকে একবারে প্রকাশ্যেই মধুচক্রের আসর চলানোর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে, তাই কোনও সমস্যা হবে না বলে চক্রের পান্ডারা অভয় দিচ্ছে। ঘটনাস্থল শিলিগুড়ির সেবক রোডের একটি শপিং মলের বিল্ডিং। স্থানীয় এক পাঞ্জাবি যুবকের তত্ত্বাবধানে এই অসামাজিক কাজকর্ম অবাধে চলছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, ফাঁড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে এই কাজ চললেও বিষয়টি কি পুলিশের নজরে আসেনি? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জোন (১) জয় টুডুকে ফোন করা হলে তিনি ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। সহকারী পুলিশ কমিশনার পূর্ব (১) শুভেন্দ্র কুমার বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

শিলিগুড়িতে কলসেন্টারের নাম করে দিনের পর দিন অবৈধ ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব চলছে। সেই ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের আড়ালে প্রতারণা, নেশার কারবার, যৌন ব্যবসা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে শহরের বুকে এই অবৈধ কারবার চললেও ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই। এসবের মাঝেই শহরের বুকে শপিং মলের ঠিক পেছনেই থাকা স্পা-তে চলছে অসামাজিক কাজকর্ম। আদতে দেখতে স্পা মনে হলেও ভেতরেই চলছে অসামাজিক কাজ। স্পা-এর বাইরে দরজার কাছে যুবতীরা দাঁড়িয়ে থাকছে। লিফট দিয়ে বিল্ডিংয়ে ঢুকতেই ডাকাডাকি করবে যুবতীরা। খদ্দের ধরতে একে অপরের সঙ্গে তারা ঝামেলাও শুরু করে দেয়। খদ্দেরকে স্পা-এর ভেতরে নিয়ে যেতেই কাউন্টারে বসে থাকা যুবতীর হাতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৮০০ টাকা দিতে হবে। এরপর খদ্দেরের কাছে জানতে চাওয়া হবে সে কেমন যুবতী চায়। সেই অনুয়াযী চার থেকে পাঁচজন যুবতীকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে। খদ্দের যুবতী পছন্দ করলেই ভেতরের ছোট কুঠুরির মতো ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘরে যাওয়ার আগে বলে দেওয়া হচ্ছে দ্রুত কাজ সারতে হবে। পুলিশের কথা জিজ্ঞেস করতেই বলা হচ্ছে সেসব আমরা দেখে নেব। ভেতরের কুঠুরিতে যেতেই যুবতীর সঙ্গে দরদাম চলবে। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য ৩০০০ থেকে ১০০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা নেবে। সূত্রের খবর, সেবক রোডের ওই স্পাগুলিতে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা চলছে। সেখান থেকে একটা মোটা অংশের টাকা যাচ্ছে রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রভাবশালীদের পকেটে। পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছে স্থানীয় এক পাঞ্জাবি যুবক। কোনও পুলিশি সমস্যা বা অন্য কোনও ঝামেলা হলে তা দেখার দায়িত্ব ওই যুবকের। যুবকের দাবি, প্রতিমাসে পুলিশের কাছে মোটা টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়, তাই তাদের কেউ কিছুই করতে পারবে না। তাই অবিলম্বে গোটা বিষয়টি নিয়ে পুলিশি সক্রিয়তার দাবি উঠেছে। অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন শহরবাসী।

- Advertisement -