স্লিপ ছিঁড়ে পার্কিং থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় শিলিগুড়িতে

245

শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি শহরজুড়ে পার্কিংয়ে নামে প্রকাশ্যে জালিয়াতি চলছে। পার্কিংকর্মীদের জন্য বরাদ্দ কমলা জামা পরে বিভিন্ন অসাধু পদ্ধতিতে  পার্কিংয়ে নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় চলছে। বাদ যাচ্ছে না খোদ পার্কিং বিভাগের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা বিদাযি মেয়র পারিষদের ওয়ার্ডও। পুরনিগমের নিয়মে বাইকের জন্য ৫ টাকা ধার্য থাকলেও মহানন্দাপাড়া সূর্য সেন পার্ককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পার্কিং লটে পার্কিং করতে আসা বাইকচালকদের ১০ টাকার স্লিপ দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কেউ যাতে জালিয়াতি ধরতে না পারে তার জন্য স্লিপটি দেওয়ার সময় প্রিন্টেড দশ টাকার অংশটা ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। পার্কিংকর্মীদের পাশাপাশি আরও কিছু যুবক সেই স্লিপ দেখিয়ে একইরকম পদ্ধতিতে টাকা তুলছেন বলে অভিযোগ।

শহরে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জায়গায় পার্কিংয়ের টেন্ডারের সময়সীমা শেষ হয়েছে। নতুন করে টেন্ডার না হলেও পুর আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টাকা তোলার প্রক্রিয়া অবাধে চলছে। বিশেষ করে বর্ধমান রোডর একাংশে টেন্ডার না থাকা সত্ত্বেও গাড়ি, বাইক দাঁড়াতেই বিনা স্লিপে  ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করা হচ্ছে। স্লিপ চাইতেই তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অজুহাত। প্রতিদিন সংগৃহীত সেই টাকা নিয়ে এলাকাভিত্তিক সক্রিয় চক্রের মধ্যে চলছে হিসেবমতো ভাগাভাগি। পুরনিগমের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যের ওয়ার্ডেই যদি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পার্কিংয়ের নামে  টাকা আদায় করা হয় তাহলে গোটা শহরের পার্কিং অনিয়মের ছবিটা একইরকম থাকাটাই স্বাভাবিক। পার্কিংকর্মীদের প্রশ্ন করতেই অভিযুক্তদের যুক্তি, কাউন্টার পার্ট রাখার জন্যই স্লিপ ছিঁড়ে দেওয়া হচ্ছে। কাউন্টার পার্ট ছিঁড়েই তো বাকি স্লিপ বেরিয়ে আসছে। তাহলে টাকার অংশটা ছেঁড়া হচ্ছে কেন? তাঁদের যুক্তি, দশ টাকারই তো ব্যাপার দাদা। কিন্তু সারাদিনে পার্কে ২০০-রও বেশি গাড়ি আসে। সুতরাং, অবৈধভাবে সংগৃহীত টাকার পরিমাণ যে অনেকটাই তা বলাই বাহুল্য। পার্কে ঘুরতে আসা অভিজিত্ সরকার বলেন, এখানে পার্কিংয়ে টেন্ডার রয়েছে কি না, হাতে পাওয়া ছেঁড়া স্লিপের বাস্তব কোনও অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়ে মনে প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি নিয়ে ওই ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর কমল আগরওয়াল বলেন, সূর্য সেন পার্কে পার্কিংয়ের টেন্ডার এখনও বৈধ রয়েছে। তবে পার্কিংয়ের টাকা নেওয়ার পদ্ধতি সংক্রান্ত যে অভিযোগ উঠছে সেটা কোনওভাবেই কাম্য নয়। আমার কাছেও এই অভিযোগ এসেছে। এ ব্যাপারে আমি ওই এলাকার টেন্ডারপ্রাপকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেব। শহরের অন্য জায়গা থেকেও টেন্ডার শেষ হওয়ার পরও টাকা ওঠানোর অভিযোগও পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত নতুন করে টেন্ডারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

- Advertisement -