বেআইনিভাবে জলাশয় বুজিয়ে ফেলার কাজ শুরুর অভিযোগ জঙ্গিপুরবাসীর

223

মুর্শিদাবাদ: জঙ্গিপুর পৌরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হতেই রঘুনাথগঞ্জ শহর এবং তার আশেপাশের এলাকার একাধিক জলাশয় বেআইনিভাবে বুজিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ জঙ্গিপুরবাসীর। প্রকাশ্যে দিনের বেলাতে পুকুর ভরাটের কাজ চললেও ভূমি রাজস্ব দপ্তর এবং পৌরসভা গোটা বিষয়টি জেনেও চোখ বুজে বসে রয়েছে বলে অভিযোগ।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং রাজ্য প্রশাসন কোন জলাশয় ভরাট করা যাবেনা বলে সিদ্ধান্ত নিলেও মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে এই সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, জঙ্গিপুর পৌরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রশাসক হিসেবে মোজাহারুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পরই একাধিক জায়গা থেকে বেআইনিভাবে জলাভূমি ভরাটের খবর আসছে।

- Advertisement -

নতুন করে জঙ্গিপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাজার বিলাত মোড় সংলগ্ন এলাকায় একটি বড় পুকুর ভড়াটের কাজ গত কয়েকদিন ধরে শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর বক্তব্য দিনের বেলা ট্রাক্টর ও ভ্যান করে মাটি এবং রাবিশ এনে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। অথচ পৌরসভা এবং বিএলআরও অফিসের লোকজন কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, ‘৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিলাত মোড় সংলগ্ন এলাকার এই পুকুরটি এলাকার একমাত্র জল নিকাশি ব্যবস্থার জায়গা। সম্প্রতি এক প্রোমোটার ওই পুকুরটি কিনে নেওয়ার পরই বেআইনিভাবে পুকুর ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।‘

তাদের বক্তব্য যেভাবে পুকুরটিকে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে তাতে আগামীদিন অল্প বৃষ্টিতেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়বে। ওই এলাকার এক বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘যে প্রোমোটার পুকুর ভরাট করছে তাঁর সাথে রাজনৈতিক দলের নেতাদের খুব ভাল যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোথাও অভিযোগ জানালে আমাদের জীবন সংশয় হতে পারে। কিন্তু যেভাবে পুকুর ভরাট হচ্ছে তাতে এলাকাতে জল জমার সমস্যা এবং তার থেকে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া রোগের প্রকোপ বাড়বে আমাদের এলাকাতে।‘ এলাকার বাসিন্দারা বলেন, তাঁরা বিভিন্ন মহলে পুকুর ভরাটের মৌখিক অভিযোগ জানালেও তাতে কোনও লাভ হয়নি।

দিনের আলোতে পুকুর ভরাটের কাজ চললেও বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি বলেই জানিয়েছেন জঙ্গিপুর পুরসভার প্রশাসক মোজাহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি জেনেছি। আজকেই আমি ওই এলাকাতে অফিসারদের পাঠাচ্ছি। বেআইনিভাবে পুকুর ভরাট আমরা বরদাস্ত করবনা। বিষয়টি রঘুনাথগঞ্জ-১ বিএলআরও-কেও জানানো হচ্ছে।‘ ওই পুকুরের এক মালিক জানান, ‘আমি পুকুর ভরাট করছি না, শুধুমাত্র রাস্তার জন্য সামান্য পুকুর ভরাট করছি।‘

এলাকবাসীর সুবিধার জন্য অল্প পুকুর বুজিয়ে রাস্তা তৈরীর দাবি করলেও প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ফুট পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ায় তার দাবির সত্যতা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ পুকুর ভরাট বন্ধের দাবি জানালেও আতঙ্কে মুখ খুলতে পারছেন না। এসডিএলআরও (জঙ্গিপুর) বিনয় কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এই ভাবে জলাভূমি বা পুকুর ভরাট করা যায় না। আমি রঘুনাথগঞ্জ-১ বিএলআরও-কে বলছি দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ করবার জন্য।’ রঘুনাথগঞ্জ-১ বিএলআরও রণেন মন্ডল বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। আজকেই আমার অফিসাররা ঘটনাস্থলে যাবে।‘