প্রাক্তন তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভেজাল মদ তৈরির কারখানার হদিস

442
প্রাক্তন তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া স্পিরিট বোঝাই ড্রাম। - সংবাদচিত্র

শিলিগুড়ি, ২৫ জুলাইঃ বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরত্বে থাকা প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বাড়ি থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার নকল মদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়াল। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ওয়ারেন্ট নিয়ে বিহার পুলিশ এবং বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ যৌথভাবে বিধাননগর ২ নম্বর অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার ওরফে বসুর বাড়িতে হানা দেয়। চলতি মাসের ১৯ তারিখ রাতে শিলিগুড়ি কলেজপাড়া এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে বিহার পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এদিন তার বাড়িতে হানা দিতেই চক্ষু রীতিমতো চড়কগাছ এলাকাবাসীর। ওই বাড়িতেই দীর্ঘদিন থেকে নকল মদ তৈরির কারবার চালানোর অভিযোগ রয়েছে বিশ্বজিৎ সরকারের বিরুদ্ধে। বিহার পুলিশের কাছে অভিযোগ ছিল, ওই ব্যক্তি নকল মদ তৈরি করে বিহারে পাচার করত। সেই অভিযোগেই এদিন পূর্ণিয়ার সদর অঞ্চল (এ) এর সার্কেল ইন্সপেক্টর রামবিজয় শর্মা এবং দাগারুয়া থানার ওসি রামচন্দ্র মণ্ডলের উপস্থিতিতে তার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তারের পর ওই ব্যক্তিকে বিহারে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে তার বাড়িতে হানা দেয়। ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারির আগেও বিহার পুলিশ ওই বাড়িতে হানা দিয়ে কিছুই পায়নি। তবে, এদিন ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর সহদরগছ এলাকায় আলিসান ওই বাড়িতে হানা দিতেই ভিতরের কারখানা থেকে ২০০ লিটার করে স্পিরিট বোঝাই ৯০টি ড্রাম উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি, ২৪টি করে কাঁচের বোতল বোঝাই ৩০টি কার্টুন, ১টি প্লাস্টিক জার ছাড়াও ৫০টি খালি ড্রাম পাওয়া গিয়েছে। রাতে বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের তরফে পাহারা বসানো হয়েছে। পুলিশের অনুমান একেকটি স্পিরিট বোঝাই ড্রামের মূল্য ৪৫ হাজার টাকা। বাজেয়প্ত স্পিরিটের বাজার মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হবে বলে পুলিশ মনে করছে। তবে, এদিন ওই বাড়ি থেকে আর কিছুই পাওয়া যায়নি বলে খবর। স্থানীয় বাসিন্দারা কেউই তৃণমূল কংগ্রেস নেতার ভয়ে এতদিন মুখ খোলেননি বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

ওই বাড়ির ভিতরে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। এছাড়া বাড়ির ভিতর প্রচুর ঘর রয়েছে। এখন সেখানে ৪টি চারচাকা পণ্যবাহী, ২টি যাত্রীবাহী ছোট চারচাকা গাড়ি রয়েছে। এছাড়াও, একটি শববাহী গাড়ি রয়েছে। অসমর্থিত সূত্রে খবর মিলেছে, ওই বিশাল বাড়ির ভেতরেই আন্ডারগ্রাউন্ড ঘর রয়েছে। যেখানে একশোর বেশি মদ তৈরিতে দক্ষ বিহারের কর্মীদের কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হত নকল মদ। সেই মদ স্থানীয় কিছু দোকানে সামান্য পরিমাণে সরবরাহ করা হত। তবে, এই বেশিরভাগ পরিমাণই বিহারে পাচার করে দেওয়া হত। বাড়ির ভিতরে থাকা শববাহী গাড়িটিতে করেও মদ পাচার করে দেওয়া হত বলে মনে করা হচ্ছে। নকল মদ কারখানার এত কাছে বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্র থাকলেও, এতদিন এই কারবার কিভাবে চলল, তাতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাড়ির ভিতরে যে পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে তাতে খুবই স্পষ্ট যে, এই নকল মদের কারখানা খুবই চিন্তাভাবনা করে বানানো হয়েছে। জাতীয় সড়কের ধারে এমন একটি বাড়ির ভিতরের এধরণের কারবার যে চলতে পারে, তা সাদাচোখে বোঝা খুবই মুশকিল।

স্থানীয় বিজেপি নেতা প্রণবেশ মণ্ডল বলেন, এতদিন তৃণমূল কংগ্রেস নেতার সহযোগিতায় এই কারবার চলত। পুলিশ স্থানীয় ওই তৃণমূল কংগ্রেস নেতার কথায় এই কারবার বাড়তে দিয়েছে। সেই কারবার এখন এত বড় পর্যায়ে চলে গিয়েছে, যে স্থানীয় পুলিশও ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে গিয়েছে। শাসকদলের নেতার মদত এবং অপরাধ দেখেও পুলিশের পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলে আজ বিধাননগরে বুকে এই অপরাধ বেড়ে উঠেছিল। পুলিশ অবশ্য এবিষয়টি কিছুটা এঁড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত বলেন, পুলিশ একটি অভিযান চালিয়েছে শুনেছি। তবে, ওই ঘটনা সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে পারছি না। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা কাজল ঘোষ বলেন, বিশ্বজিৎকে ১ বছর আগে দল থেকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল। আর এখন ওকে দল বহিষ্কার করে দিয়েছে। তাই আমি এই বিষয়ে কিছুই বলতে চাই না।