স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজোর আয়োজন করছেন ডেনমার্কের বাঙালিরা

525

দেবর্ষি মুখার্জি, কোপেনহেগেন : কলকাতায় দুর্গাপুজোয় ভিড় রুখতে যখন হাইকোর্ট পুজো মণ্ডপকে কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করছে, তখন ভারত থেকে সাত হাজার কিলোমিটার দূরের ডেনমার্কে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে পুজোর আয়োজন করছেন প্রবাসী বাঙালিরা। এই বছর ডেনমার্কের প্রবাসী বাঙালিদের দুর্গাপুজো আট বছরে পড়ল। অন্য বছর কলকাতার দুর্গাপুজোর সঙ্গে সব ক্ষেত্রে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা চললেও, এবার আগে থেকেই সতর্ক প্রবাসীরা। তাঁরা যেভাবে পুজোর আয়োজন করছেন, তা অনেক পুজো কমিটির কাছে দৃষ্টান্ত হতে পারে।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশ ডেনমার্কে বাঙালির সংখ্যা যে প্রচুর এমন নয়, তবে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা মিলে তৈরি করেছেন বেঙ্গলিজ ইন ডেনমার্ক (বিআইডি)। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় পুজোর আয়োজন করে বিআইডি। সারা ইউরোপের মতোই ডেনমার্কে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি লোকসমাগমেও বিধিনিষেধ জারি করেছে প্রশাসন। পঞ্চাশ জনের বেশি মানুষ একসঙ্গে হতে পারবেন না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই বছর পুজো হবে কি না, তা নিয়ে সকলের মতামত জানতে চেয়েছিল বিআইডি। সকলেই সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজোর পক্ষে সায় দিয়েছেন। বিআইডির পুজোর সঙ্গে প্রায় প্রথম থেকে জড়িয়ে রয়েছেন সুদীপ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আমরা কেউ চাইনি পুজোটা বন্ধ হয়ে যাক। কিন্তু সদস্যদের সুরক্ষার বিষয়টি দেখাও আমাদের কর্তব্য। তাই সতর্কতা মেনে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে।

- Advertisement -

অন্য বছর বেঙ্গলিজ ইন ডেনমার্ক-এর পুজোর জন্য কলকাতা থেকে দশকর্মা, গঙ্গাজল, বেলপাতা, দূর্বাঘাস সহ টুকিটাকি বিভিন্ন সামগ্রী ডেনমার্কে নিয়ে আসা হয়। ছয়মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। পুজো উপলক্ষ্যে বিভিন্ন খাবারের স্টল, পুষ্পাঞ্জলি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুধু বাঙালি নয়, প্রবাসী ভারতীয়রাও এই পুজোয় আনন্দ করেন। এবার সবকিছু বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোগ বা প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়নি, দশমীতে সিঁদুর খেলাও বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিমা দর্শনের জন্য টাইম স্লট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার মূল মণ্ডপের বাইরে নির্দিষ্ট স্থান থেকে দশ মিনিটের জন্য প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন। একটি পরিবারের দর্শনের পর স্যানিটাইজেশন করার পর অন্য পরিবার দর্শনের সুযোগ পাবে। মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুরোহিত ও তাঁদের সাহায্যকারীরাই শুধুমাত্র মণ্ডপে থাকতে পারবেন। বিআইডির দুর্গাপুজো কার্যনির্বাহী সমিতি এবার অনলাইনে পুজোর সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। বিআইডির পরিচালক সমিতির সদস্য কৌশিক দাশগুপ্ত বলেন, এবারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নতুন করে কোনও মণ্ডপসজ্জা হবে না। অনেক সদস্যদের যাতে একত্রিত না হতে হয়, তার জন্য এই ব্যবস্থা। কৌশিকবাবু বলেন, একসঙ্গে পঞ্চাশজন এক জায়গায় থাকতে পারলেও আমরা সংক্রমণের কথা ভেবে আরও কম লোক নিয়ে পুজোর আয়োজন করতে চাইছি। বিআইডির সম্পাদক নবনীতা নন্দীঘোষও সংক্রমণ রোখার ওপরেই জোর দিয়েছেন। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ও বিআইডির পুজোর পুরোহিত সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত প্রত্যেকদিন পুজোর মূল অংশ আমরা অনলাইনে সম্প্রচার করব। কেউ পুরোহিতদের মাধ্যমে নামগোত্র সহ পুজোও দিতে পারবেন। অনলাইনে সেই পুজো দেখতে পারবেন সকলে। বেঙ্গলিজ ইন ডেনমার্কের কোষাধ্যক্ষ রাজীব রুদ্র ও পরিচালক সমিতির সদস্য অভিষেক পাল পুজোর আর্থিক দিকটি দেখছেন। এই বছর চাঁদা নেওয়া হচ্ছে না বলে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তাঁরা। অভিষেকবাবু বলেন, অসুবিধা হলেও আমাদের সদস্যরা সাহায্য করছেন। চাঁদা না থাকলেও অনেকে সাহায্য করেছেন। কয়েটি সংস্থা আর্থিক সাহায্য করেছে।