অসমে গুরুত্ব বাড়ছে আঞ্চলিক দলের, চিন্তায় কংগ্রেস-বিজেপি

466

গুয়াহাটি : বিহারে বিধানসভা ভোট মিটলেই আরও যে দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভোট হবে, সেই পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে সরকার গড়ার লড়াইয়ে শামিল বিজেপি। অসমে অবশ্য গত ৪ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে বিজেপি। কিন্তু অসমে এবারের লড়াই বিজেপির পক্ষে যথেষ্ট কঠিন হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। পরের পর গত ৩টি নির্বাচনে ধাক্কা খেলেও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলনকে সামনে রেখে গত কয়েক মাসে অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস। প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোটের সঙ্গে এই আইন বিরোধীদের সমর্থন কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকলে বিজেপির ক্ষমতায় ফেরা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিজেপি-কংগ্রেস দুই জাতীয় দলের নেতাদের চিন্তায় ফেলেছে আঞ্চলিক দলগুলির সক্রিয়তা। একসময় অসমের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল অসম গণপরিষদের (অগপ) জনসমর্থনে ভাটা পড়লেও অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র‌্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ), বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ), লিবারাল ডেমোক্র‌্যাটিক পার্টির (এলডিপি) মতো দলগুলি অনেক আসনে জয়-পরাজয়ের হিসাব বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এআইইউডিএফের সঙ্গে আসন সমঝোতা করার ইঙ্গিত দিয়েছে কংগ্রেস।

আগামী নির্বাচনে কংগ্রেস ও বিজেপির সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে সদ্যগঠিত অসম জাতীয় পরিষদ (এজেপি)। রাজ্যেই দুই প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন আসু ও এজেওয়াইসিপি মিলিতভাবে এজেপি গঠনের পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন পড়েছে। কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতিও আলাদাভাবে প্রার্থী দিতে পারে। তাহলে অনেক আসনে চতুর্মুখী বা পঞ্চমুখী লড়াই হবে। সেক্ষেত্রে বিধানসভা ভোটের ফল ত্রিশঙ্কু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আঞ্চলিক দলগুলি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী ভোটে ভাগ বসালে কংগ্রেসের পক্ষে ক্ষমতায় ফেরা কঠিন হতে পারে। সেক্ষেত্রে গতবারের চেয়ে কম ভোট পেলেও আসন সংখ্যায় কংগ্রেসকে টেক্কা দিতে পারে বিজেপি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক প্রবীণ নেতার বক্তব্য, বিরোধী ভোট ভাগ হলে সুবিধা হবে বিজেপির। অগপ ও বিপিএফের সঙ্গে জোট থাকায় বোড়ো সহ অন্য জনজাতি এলাকাগুলিতে ভালো ফলের আশা করছে তাঁদের দল। তবে জোট বেঁধে লড়াই করলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যে ঝাঁপাবে বিজেপি।

- Advertisement -

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির নতুন দলকে ইতিমধ্যে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। তাঁর মতে, এর ফলে কংগ্রেসের রাজনৈতিক জমি হারানোর আশঙ্কা থাকলেও অগপর মতো আঞ্চলিক দলের প্রতি সাধারণ মানুষের বড় অংশের আস্থা যে তলানিতে ঠেকেছে, নতুন দলের আত্মপ্রকাশ সেদিকে ইঙ্গিত করছে। অসম জাতীয় পরিষদের নেতারা কংগ্রেস-বিজেপির সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রাখার কথা বললেও কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির সঙ্গে কংগ্রেসের আসন সমন্বয়ে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আঞ্চলিক দলগুলির প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই এখন আসন্ন ভোটের অঙ্ক মেলাতে ব্যস্ত বিজেপি, কংগ্রেস দুপক্ষই।