এনআরসির নাম করে টাকা তোলা হচ্ছে

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : এনআরসি নিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ডাবগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকদইবাড়ি, মাঝাবাড়ি, হাতিয়াডাঙ্গা এলাকায় গরিব মানুষের কাছে থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই কাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের একাংশ জড়িত। বাসিন্দাদের বলা হচ্ছে, যেহেতু ওই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তাই তাঁদের ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার সংযোগ করিয়ে নিতে হবে, যার জন্য কিছু খরচ হবে। সেই খরচ বহন করতে হবে বাসিন্দাদের। এই নিয়ে কোথাও ৫০ টাকা আবার কোথাও ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এনআরসি আতঙ্কে ওই এলাকার মানুষজন টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। আবার অনেকে এখনই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চাননি। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ গিয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। এরই পাশাপাশি বিজেপি নেতারা দলের সদস্য বাড়াতে আধার সংযোগ করাতে গিয়ে সদস্য সংগ্রহের ফর্ম দিচ্ছেন এবং তার জন্য টাকাও নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

ফকদইবাড়ি, হাতিয়াডাঙ্গা, জলেশ্বরী এলাকার অনেক বাড়িতে ফর্ম নিয়ে যাচ্ছেন কিছু যুবক। বাড়ির মালিকদের বলা হচ্ছে, এটা এনআরসির ফর্ম। এই ফর্ম পূরণ করে দিলে আর কোথাও যেতে হবে না। তবে এইসব কাজের জন্য যেহেতু প্রচুর খাটাখাটনি রয়েছে সেইজন্য কিছু টাকা দিতে হবে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওইসব এলাকার অধিকাংশ মানুষই সংবাদমাধ্যম থেকে এনআরসি সম্পর্কে জেনেছেন। কিন্তু অনেকের এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নেই। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষ ঠকানোর কারবার চলছে। বেশিরভাগ গরিব মানুষ জানেন না ওই কাজ করার জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন হয় না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওই কাজ করা হয় বিভিন্ন জায়গায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেছেন, তাঁরা তেমন লেখাপড়া জানেন না। এনআরসি নিয়ে শুনেছেন ঠিকই, কিন্তু আসলে ওটা কী সে ব্যাপারে বিশেষ ধারণা নেই। কিছু লোক বলছেন তাঁরা এ কাজ করে দেবেন। তাহলে আর  ব্যাংক, এলআইসি, পোস্ট অফিসের টাকা পেতেও সমস্যা হবে না। ওই কাজ করতে যেহেতু অনেক ঝামেলা আছে, তাই তাঁদের কিছু টাকা দিতে হবে।

- Advertisement -

ডাবগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুধা সিংহ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এরকম খবর আমার কাছেও এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় এনআরসির নাম করে টাকা নিচ্ছে বলে শুনেছি। কিন্তু আধারের সঙ্গে ভোটার কার্ড সংযোগ করাতে কোনো অর্থের প্রযোজন নেই। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, তবে আমরা শুনেছি বিজেপি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সদস্যপদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বলা হচ্ছে, এনআরসি নিয়ে তাদের সদস্যপদ নিলে নাকি আর কোনো সমস্যা থাকবে না। যদিও বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। এসবের কোনো প্রশ্নই নেই।