ঝোরার জলকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ে চাষের উন্নতি

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, দার্জিলিং : বিভিন্ন ঝোরার জলকে পরিকল্পিতভাবে পাইপলাইন এবং নালার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে চাষের জমিতে। যার দরুন পাহাড়ের রুক্ষ মাটিতেও হচ্ছে সবজি ও ধানের চাষ। প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা খরচ করে ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি ক্ষুদ্র সেচপ্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করেছে জিটিএ। ওইসব প্রকল্পে পাহাড়ের ১৬৯ হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। সেই সফলতাকে হাতিয়ার করেই পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি সেচপ্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা করেছে জিটিএ।

জিটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিম্পংয়ের গরুবাথান, নকডারা বস্তি, অম্বিয়ক বস্তি, কার্সিয়াংয়ের লোয়ার তুরুক বস্তি এবং দার্জিলিং পুলবাজারের সিংলা বস্তিতে ক্ষুদ্র সেচপ্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। চলতি মরশুম থেকেই ওইসব প্রকল্পের মাধ্যমে সেচের জল পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা। গরুবাথানের প্রকল্পে খরচ হয়েছে ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৮০ হাজার ৯৫৪ টাকা। ওই প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ব্লকের ৬৫ হেক্টর জমিতে সেচের জল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যার মাধ্যমে ৯০টি কৃষক পরিবার উপকৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জিটিএ কর্তারা। সিংলা বস্তি প্রকল্পে খরচ হয়েছে ২৬ লক্ষ ৬৭ হাজার ১৮৮ টাকা। ছোট রঙ্গিত ঝোরা ওই প্রকল্পে জলের জোগান দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ওই এলাকার ১৬ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে এবং ২৮টি কৃষক পরিবার উপকৃত হয়েছে। লোয়ার তুরুক প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২১ লক্ষ ৩০ হাজার ৮০৮ টাকা। ওই প্রকল্পে ১৫ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের জল পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। উপকৃত হয়েছে ৪০টিরও বেশি কৃষক পরিবার।

- Advertisement -

নকডারা বস্তি প্রকল্পে ৫৪ লক্ষ ২৪ হাজার ৫২৯ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রায় ৪৫ হেক্টর জমিতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে সেচের জল পৌঁছানো গিয়েছে। ওই প্রকল্পে ৫০টিরও বেশি কৃষক পরিবার উপকৃত হয়েছে। অম্বিয়ক বস্তি প্রকল্পে স্থানীয় কালীবাড়ি ঝোরা থেকে পাইপলাইন এবং কংক্রিটের নালা তৈরি করে জল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ২৮ হেক্টর জমিতে। ৩৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৮৪ টাকার ওই প্রকল্পে উপকৃত হয়েছে ৪০টিরও বেশি কৃষক পরিবার। বর্ষার মরশুমে বৃষ্টির জল ধরে রেখে প্রয়োজনের সময়ে সেই জলকে সেচের কাজে ব্যবহার করার জন্য তৈরি হচ্ছে পৃথক পরিকল্পনা। কোন কোন এলাকায় এই প্রকল্প কাজে লাগানো যেতে পারে তারজন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল সমীক্ষা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জিটিএ কর্তারা।

জিটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, আপার দুধিয়া সহ মিরিকের একাধিক এলাকা, রংলি রংলিয়ট, বিজনবাড়ি, সুখিয়াপোখরি সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ক্ষুদ্র সেচপ্রকল্পের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ওইসব এলাকায় জলের জোগান দেওয়ার মতো ঝোরাও আছে। সেচের অভাবে সম্ভাবনা থাকলেও ওই এলাকাগুলিতে সবজি চাষে এখনও সেভাবে উন্নতি করতে পারেননি কৃষকরা। সেচ চালু হলে উৎপাদনে গতি আসবে বলেই মত কৃষকদের। আপার দুধিয়ার কৃষক সুভাষ লামা বলেন, প্রতিবছর সবজির পাশাপাশি কালো নুনিয়া এবং ভুট্টার চাষ করি। অনেক কষ্ট করে নদী থেকে সেচের জল আনতে হয়। নকডারা বস্তির কৃষক সুমিতা ছেত্রী বলেন, গাজর, মুলো, টমেটো, বিভিন্ন ধরনের লংকা এবং শাকের চাষ করি। এখন জল মিলছে তাই নিশ্চিতভাবে উৎপাদন বাড়বে।

জিটিএর প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনীত থাপা বলেন, পাহাড়ে অল্প পরিমাণে ধান, ভুট্টা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মরশুমি সবজি চাষ হয়। আমরা চেষ্টা করছি প্রতিটি চাষের জমিতে জল পৌঁছে দেওয়ার। আমরা আরও বেশ কিছু জায়গায় ওই প্রকল্পের মাধ্যমে চাষের জমিতে জল পৌঁছে দেব। বৃষ্টির জল ধরে রেখে সেচের কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে প্রকল্প রূপায়ণের চেষ্টা করা হচ্ছে।