৩০ বছরে একা ৩ কিমি খাল খনন করলেন কৃষক

660

গয়া : আরও এক দশরথ মাঝির দেখা মিলল সেই বিহারেই। ইনি অবশ্য আস্ত পাহাড় কেটে রাস্তা করেননি। গয়া জেলার লাথুয়া অঞ্চলের কোঠিওয়ালা গ্রামের বাসিন্দা লউঙ্গি ভুঁইয়া একা হাতে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খাল কেটেছেন। সময় লেগেছে কত জানেন? পাক্কা ৩০ বছর। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার তোয়াক্কা না করে গত তিন দশক ধরে কাজটি করেছেন গ্রামবাসীর সুখের জন্য। জীবনের অনেকগুলো বছর তাঁর কেটে গিয়েছে খাল খুঁড়তেই। স্ত্রীর স্মৃতিতে পাহাড় কেটে দীর্ঘ রাস্তা তৈরি করে বিখ্যাত হয়েছিলেন গয়া জেলার গেহলাউর গ্রামের বাসিন্দা মাউন্টেন ম্যান নামে পরে পরিচিতি লাভ করা দশরথ মাঝি। পেশায় পশুপালক লউঙ্গি খাল কেটে জল তথা জীবন এনে দিয়েছেন গ্রামে। খালের জলে সবুজে ভরে উঠবে গ্রাম। তৃষ্ণার জল পাবে গবাদিপশু। গয়া সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা মাওবাদী অধ্যুষিত এই কোঠিওয়ালা গ্রাম। এখানে বর্ষাকালে পাহাড়ের গা বেয়ে অজস্র ধারায় বহতা স্রোতস্বিনী নামলেও, জল ধরে রাখার অর্থাৎ সংরক্ষণের কোনও ব্যবস্থা নেই। কিছু জল জমা হত পুকুরে। কিছু পাহাড়ের গা বেয়ে ছড়িয়ে পড়ত। কিছু প্রাকৃতিক নিয়মে চলে যেত মাটির তলায়। পঞ্চায়েত, প্রশাসন তো বটেই, গ্রামের মানুষেরও তাতে ভ্রূক্ষেপ ছিল না।

লউঙ্গি ভুঁইয়া প্রথম অন্য কথা ভেবেছিলেন। বর্ষায় পাহাড় থেকে নামা জলকে গ্রামে আনার কথা ভাবতে ভাবতে খাল কাটার ভাবনা আসে তাঁর মাথায়। কোঠিওয়ালা গ্রামে সব মরশুমেই জলের অভাব। জলের অভাবে মার খায় কৃষিকাজ। পানীয় জলের পাশাপাশি প্রতিদিনকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জলেরও ভীষণ অভাব এই গ্রামে। সমস্যার সমাধানে খাল কাটার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে শুরু করেন লড়াই। নেমে পড়েন কোদাল নিয়ে তখন কেউ আসেননি তাঁর পাশে। লউঙ্গির কথায়, রোজ ভোরে গোরু-বাছুর চরাতে গিয়ে ছেড়ে দিতাম। আমি শুরু করতাম মাটি কোপাতে। প্রতিদিন একটু-একটু। চড়া রোদ ওঠার আগে যতটা কাজ এগোনো যায়। পরের দিন ভোরে আবার শুরু হত। গ্রামের সকলে ঘুম থেকে উঠে কাজের ধান্দায় শহরে ছুটতেন। আমি কিন্তু এই কাজ ছেড়ে কোথাও নড়িনি। লউঙ্গি ভুঁইয়ার একক ক্ষমতায় ৩০ বছরে এই খাল খননের কীর্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। ধন্য ধন্য করছেন চারপাশের মানুষ। দশরথ মাঝির কীর্তি নিয়ে সিনেমা হয়েছে। লউঙ্গি ভুঁইয়ার কীর্তি কি সেলুলয়েছে বন্দি হবে?

- Advertisement -