মালদায় স্টেথো হাতে আইনরক্ষক

759

হরষিত সিংহ, মালদা: ছোট থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল দুচোখ। ইচ্ছেডানায় ভর করে ২০১২ সালে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। তারপর লখনউ কিং জর্জ মেডিকেল কলেজ থেকে কমিউনিটি মেডিসিনের ওপর এমডি করেন। কিন্তু ডাক্তারি পড়তে পড়তেই পুলিশে চাকরি করার ইচ্ছে মাথায় চেপে বসে। সেই মতো এমডি করার মাঝেই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন হোসেন মেহেদি রহমান। প্রথম চেষ্টাতেই আইপিএস পাশ করে যান। সেটা ২০১৬।  বর্তমানে তিনিই মালদা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার)। জেলার আইনশৃঙ্খলা সামলানোর গুরুদায়িত্ব তাঁরই কাঁধে। তবে আইনশৃঙ্খলা সামলানোর পাশাপাশি নিজের ডাক্তারিও সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতিতে মালদায় বহু পুলিশকর্মী সংক্রামিত হয়েছেন। জেলার পুলিশকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও নিজেদের কর্তব্যে অবিচল থেকেছেন তাঁরা। এই করোনা পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) হোসেন মেহেদি রহমান। করোনা পরিস্থিতিতে মালদা জেলা পুলিশে চিকিৎসক হোসেন মেহেদি রহমান যোগদান করায় অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা পুলিশের পক্ষে চিকিৎসক তথা আইপিএস হোসেন মেহেদি রহমানকে দিয়ে প্রতিটি থানায় বিশেষ শিবির করা হচ্ছে।

- Advertisement -

জেলায় করোনা সংক্রমণ ছাড়ানোর প্রথম দিকে জেলা পুলিশের পক্ষে প্রতিটি থানায় বিশেষ সচেতনতার শিবির করা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ খাদ্যতালিকা তৈরি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন নির্দেশিকা দিয়েছেন পুলিশকর্মীদের। প্রথম দিকে জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান প্রতিটি থানার আইসি ও ওসিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে। বর্তমানে থানার আইসি, ওসিরা নীচুস্তরের কর্মীদের করোনা নিয়ে শিবির করে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করছেন।

মালদা জেলা পুলিশের বর্তমান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডক্টর হোসেন মেহেদি রহমানের বাড়ি উত্তর দিনাজপুরে। আইপিএস হয়ে দুই বছর প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে ২০১৮ সালে ব্যারাকপুরের এসিপি হয়ে কাজে যোগ দেন। তারপর আলিপুরদুয়ার জেলার এসডিপিও নিযুক্ত হন ২০১৯ সালে। চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে মালদা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে আসেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান জানান, ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল চিকিৎসক হব। তাই এমবিবিএস করি। কিন্তু বড় হয়ে আমার ইচ্ছের পরিবর্তন হয়। সিভিল সর্ভিস পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কাজের ইচ্ছে হয়। তাই আমি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসি। তবে আমি একজন চিকিৎসকও। তাই করোনা আবহে সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে পুলিশকর্মীদের সচেতন করছি। জেলা পুলিশ সুপার আমাদের সাহায্য করছেন।

এখন উর্দিধারী হলেও ডাক্তারিটা চালিয়ে যাচ্ছেন হোসেন মেহেদি রহমান। স্টেথো হাতে পুলিশকর্মীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শও দিচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।