আলিপুরদুয়ারে বেড়েছে মদ বিক্রি, সরকারি কোষাগারে শ্রীবৃদ্ধি

173

আলিপুরদুয়ার: করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন বিধিনিষেধের মধ্যেই দেখা গিয়েছে অনেক পরিবার ভরপেট খাবার জোগাড় করতে অক্ষম। তবে, সুরা প্রেমীরা নিজেদের ছন্দেই ছিল। সেই জন্য গতবছরের তুলনায় এই অর্থ বর্ষে মদ বিক্রি থেকে সরকারের পাওয়া রাজস্ব অনেকটাই বেড়েছে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনার প্রভাব বাড়তে থাকে। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবসাই কোমর শক্ত করতে পারেনি। উলটে মদ বিক্রির গ্রাফ অনেকটাই বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থ বর্ষে আলিপুরদুয়ার জেলায় মদ বিক্রি থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৭,৫৮,০৭,১৯৬ টাকা। ২০২০ -২১ অর্থ বর্ষে সেটা বেড়ে হয়েছে ৯৭,৮১,৪০,২২১ টাকা। প্রায় ২০% রাজস্ব আয় বেড়েছে।

সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত মদের দোকান ছাড়াও আলিপুরদুয়ার জেলার পার্শ্ববর্তী উত্তর-পূর্ব রাজ্যে থেকেও চোরাই পথে আসছে মদ, গাঁজা সহ বিভিন্ন মাদক সামগ্রী এই জেলা দিয়ে রাজ্যে আসে। এই রাজ্যের থেকে প্রায় তিনগুণ কম দামেই ওইসব রাজ্যে মদ পাওয়া যায়। আবগারি দপ্তর এবং রেলের সিআইবি কয়েক মাসেই বিভিন্ন মাদক পাচার রুখতে সফল হয়েছে। সড়ক পথে গাড়ি আটকের পাশপাশি উত্তর পূর্ব থেকে আসা ট্রেন থেকেও মাদক উদ্ধার হয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার আবগারি দপ্তরের সুপারিনটেনডন্ট উগেন শেওয়াং বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় অভিযাহ্ন চালিয়ে মাদক সামগ্রী পাচার আটকানো হয়।‘

- Advertisement -

চিকিৎসকরা জানান, করোনায় বেশি মৃত্যুর কারণ কো-মরবিডিটি। শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাধার অন্যতম কারণ মাদক সেবন। সেই জায়গায় করোনা পরিস্থিতিতেও মদের বিক্রি বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসক মহল এবং সমাজকর্মীরা। আলিপুরদুয়ার প্রবীণ নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক সমাজকর্মী ল্যারি বোস বলেন, ‘সরকারি হিসেবের বাইরেও চোরাই মদের রমরমা সমাজের জন্য চিন্তার কারণ।‘ জেলা শহরের এক মদের দোকানের কর্মী রিপন বৈদ্য বলেন, ‘লকডাউন এবং আংশিক লকডাউনে কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দোকান খোলা হত। তাতেই দীর্ঘ লাইন থাকত দোকানের সামনে।‘