বংশীহারীতে খোলাবাজারে মিলছে খাদ্যসাথীর চাল

104
প্রতীকী ছবি

দিলীপকুমার তালুকদার, বুনিয়াদপুর : খাদ্যসাথীর চাল, গম খোলাবাজারে বেচে দিচ্ছেন উপভোক্তাদেরই অনেকে। রেশনে বিনামূল্যে পাওয়া খাদ্যসামগ্রী বেচে দেওয়ার এই চিত্র ধরা পড়েছে বংশীহারী ব্লকজুড়ে। প্রকৃত অর্থে যাঁদের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদেরই শুধু রেশন থেকে চাল, গম দেওয়ার দাবি তুলেছেন অনেকে। বিষয়টি জানার পরই প্রশাসনের টনক নড়েছে। গঙ্গারামপুর মহকুমা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের কাজ বেআইনি। এর বিরুদ্ধে পুলিশ নজরদারি চালাবে।

করোনা আবহে আমআদমির খাদ্যসংকট মেটাতে রাজ্য সরকার খাদ্যসাথী প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রেশন থেকে চাল, গম বিনা পয়সায় বিলির ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিমাসে মাথা পিছু দুই কেজি চাল ও তিন কেজি গম বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের ফলে প্রচুর মানুষ উপকৃত হন। তবে যাঁদের দরকার নেই, তাঁরাও এই প্রকল্পে প্রতিমাসে বিনা পয়সায় খাদ্যসামগ্রী পাচ্ছেন। কিন্তু তা ব্যবহার না করে তাঁদের অনেকেই বেচে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

মধ্যবিত্ত উপভোক্তাদের অনেকের বক্তব্য, যে চাল ও গম দেওয়া হচ্ছে, তা খুবই নিম্নমানের ও খাওয়ার অযোগ্য। তাই প্রতি কেজি চাল ১৬ টাকা দরে ও গম ১৪ টাকা দরে মুদির দোকানে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে একটু ভালো চাল কিনে খাচ্ছি। এই ধরনের কাজে রীতিমতো ক্ষুব্ধ নিম্নবিত্ত উপভোক্তারা। মহাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাথরঘাটা এলাকার খেতমজুর সোমরা কিস্কুর বক্তব্য,আমরা গরিব মানুষ। তাই রেশনের চালের ভাত খাই। আমাদের কোনও অসুবিধা হয় না। কিন্তু, অনেকের নাকি সেই চাল মুখে রোচে না। সেজন্য তাঁরা চাল এবং গম নিয়ে তা বিক্রি করে দেন। আমরা যেটুকু চাল এবং গম রেশন থেকে পাই, তাতে হয় না। সেজন্য দোকান থেকে রেশনেরই চাল ২০ টাকা কেজি করে এবং গম ১৯ টাকা কেজি দরে কিনে নিই। সরকারের উচিত যাঁদের দরকার নেই, তাঁদের চাল এবং গম দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রেশন ডিলার বলেন,অনেক উপভোক্তা তাঁদের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী না নিয়ে আমাদের কাছেই বিক্রি করে বিনিময়ে টাকা নিয়ে যান। তাঁরা নাকি এইসব নিম্নমানের চাল, গম খেতে পারেন না। ওই উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে রেশন সামগ্রী বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বাজারে প্রচুর পরিমাণে রেশনের খাদ্যসামগ্রী প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের এই ব্যাপারে নজর দেওয়া দরকার।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ামক জয়ন্ত রায়ের বক্তব্য,কে, কোথায় রেশনের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করছে, তা নজর রাখার দায়িত্ব আমার নয়। নজরদারি চালানোর জন্য আলাদা দপ্তর রয়েছে। জেলায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কাজ আমার দপ্তরের। আমরা সেই কাজই করে থাকি। গঙ্গারামপুরের মহকুমা শাসক মানবেন্দ্র দেবনাথের বক্তব্য,আমি বিষয়টি প্রথমবার শুনলাম। খুবই গর্হিত অপরাধ। এই ধরনের কাজ বন্ধ করার জন্য আমি পুলিশকে নজরদারি চালাতে বলব।