উত্তরবঙ্গে করোনা আক্রান্ত মহিলার সংস্পর্শে কারা, খোঁজ শুরু স্বাস্থ্যদপ্তরের

550

শিলিগুড়ি, ২৯ মার্চ: উত্তরবঙ্গে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর মিলতেই আতঙ্কে সিঁটিয়ে গিয়েছেন শিলিগুড়িবাসী। যদিও ওই মহিলা কালিম্পংয়ের বাসিন্দা কিন্তু তিনি চেন্নাই থেকে বিমানে বাডোগরায় নেমে শিলিগুড়িতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছিলেন। চিকিৎসার খাতিরে তিনি দুই দফায় শিলিগুড়িতে এসেছিলেন। শহরের বেসরকারি ল্যাবেও পরীক্ষা করান। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগের পারদ বাড়ছে। ওই মহিলাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের রেসপিরেটরি ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। ওই মহিলার পরিবারের সদস্য, আত্মীয় পরিবারের সদস্য সহ তাঁর চিকিৎসা করা এক ডাক্তারকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
মহিলার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর মেয়ে পড়াশুনার খাতিরে চেন্নাইতে থাকে। চলতি মাসের ৭ তারিখ তিনি চেন্নাইতে যান। ১৯ তারিখ বিমানে বাগডোগরায় আসেন। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে ভক্তিনগর থানার অন্তর্গত এলাকায় এক আত্মীয়র বাড়িতে আসেন। ওই দিনই কালিম্পংয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান। ২০ তারিখ জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হন। কালিম্পংয়ের এক চিকিৎসকের কাছে যান। তাঁর পরামর্শে ওষুধ খেলেও সুস্থ হননি। ২৬ তারিখ শিলিগুড়িতে ওই আত্মীয়র বাড়িতে ফের আসেন। একটি ক্লিনিকে এক্সরে, সিটিস্ক্যান করান। কিন্তু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে মেডিকেলে ভর্তি হন। করোনা সন্দেহ হওয়ায় মেডিকেলের চিকিৎসকরা বেলেঘাটায় সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠান। সেখান থেকে শনিবার সন্ধ্যায় রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
আক্রান্ত মহিলার সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন তাঁদের খোঁজ করছে স্বাস্থ্যদপ্তর। মেডিকেলে ভর্তির আগে তিনি ক্লিনিকে, ওষুধের দোকানে, আত্মীয়র বাড়িতে যান সেগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। মহিলা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানাজানি হতেই কালিম্পংয়ে এবং শিলিগুড়ির সংশ্লিষ্ট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কালিম্পংয়ের ওই চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। সেখানকার ওষুধের দোকানটিও এদিন বন্ধ করা হয়।
কালিম্পং, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ির জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তরা গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছেন।