কোচবিহারে করোনা পরীক্ষা হয়নি ৯০ শতাংশ পরিযায়ীর

421
ফাইল ছবি

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বাইরে থেকে জেলায় ফেরা মানুষের মধ্যে ১০ শতাংশেরও লালা পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে বর্তমানে সরকারি হিসেবে জেলায় মাত্র একজন করোনা সংক্রামিত রোগী থাকলেও বাস্তব চিত্র কী রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কোচবিহার জেলায় পরিকাঠামোর অভাব থাকায় একসঙ্গে বেশি সংখ্যক লালার নমুনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। জেলায় একটি ট্রুনাট মেশিন থাকলেও এখনও পর্যন্ত আরটি-পিসিআর মেশিন বসিয়ে লালা পরীক্ষার কাজ শুরু করা যায়নি। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে যখন বহুসংখ্যক লালা পরীক্ষা হয়েছে তখন কোচবিহারে পরীক্ষার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, রাজ্যের যে জেলাগুলিতে বেশি সংখ্যায় লালা পরীক্ষা হয়েছে, কোচবিহার তার মধ্যে অন্যতম। তবে যেহেতু এই জেলায় পরিয়ায়ী শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি, তাই লালার নমুনা পরীক্ষার হার আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ান বলেন, জেলার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ডগুলি থেকে লালার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপসর্গহীন রোগীদের কাছ থেকে যাতে সংক্রমণ না ছড়িয়ে পড়ে সেজন্য এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিনই করোনা পজিটিভের সংস্পর্শে আসা মানুষ, কনটেনমেন্ট জোনের বাসিন্দা, উপসর্গ রয়েছে এমন মানুষের লালা পরীক্ষা করা হচ্ছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রণজিৎ ঘোষ বলেন, লালা পরীক্ষার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে এখন বাড়ানো হয়েছে। এদিনও প্রায় ৫০০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সরকারি হিসেব অনুয়ায়ী এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষ জেলায় ফিরেছেন। তবে পুলিশ-প্রশাসনের নজর এড়িয়ে পায়ে হেঁটে, সাইকেল বা লরিতে বহু মানুষ জেলায় ফিরেছেন। ফলে সব মিলিয়ে সেই সংখ্যা দেড় লক্ষেরও বেশি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত গোটা কোচবিহার জেলায় ১০ হাজার ৩০৯ জনের লালার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ১৬৮ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। বাকিদের পরীক্ষা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী জেলার বাইরে থেকে ফেরা ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষের লালা এখনও পরীক্ষা করা যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় করোনা সংক্রামিত যাঁদের হদিস মিলেছে, তাঁদের অধিকাংশই উপসর্গহীন। তবে স্বস্তির খবর, বর্তমানে তুফানগঞ্জের মাত্র একজন রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছেন। বাকিরা ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। কিন্তু জেলার বাইরে থেকে আসা যে লক্ষাধিক মানুষের এখনও লালা পরীক্ষা করা হয়নি তাঁদের মধ্যে ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

- Advertisement -

প্রশাসনের দাবি, আশাকর্মী সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা জেলার প্রতিটি এলাকায় সমীক্ষা করছেন। লালা সংগ্রহের পাশাপাশি কারও মধ্যে রোগের উপসর্গ রয়েছে কি না সেই সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এদিকে, কোচবিহার মেডিকেলে দীর্ঘদিন হল আরটি-পিসিআর মেশিন বসানো হয়েছে। কিন্তু আইসিএমআর-এর চূড়ান্ত ছাড়পত্র না পাওয়ায় লালা পরীক্ষা শুরু করা যায়নি। সেখানে কাজ শুরু হলে সমস্যা মিটবে বলে আশাবাদী স্বাস্থ্য দপ্তর।