গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

313

মুরতুজ আলম, সামসী: এক গৃহবধূকে অ‍্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল-১ ব্লকের ভগবানপুরে। যদিও গৃহবধূ খুনের ঘটনায় শুক্রবার চাঁচল থানায় অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের নজিরবিহীন শাস্তির দাবি করেন গৃহবধূর বাবা উত্তম সাহা।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই গৃহবধূর নাম দীপান্বিতা সাহা (২৪)। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় মৃতার স্বামী রাকেশ সাহা, ভাশুর রাহুল সাহা ও মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়িসহ মোট ৪ জনের বিরুদ্ধে মেয়ের বাবা উত্তম সাহা শুক্রবার অভিযোগ দায়ের করেছেন চাঁচল থানায়। পুলিশ মৃতদেহ ময়না-তদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

- Advertisement -

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুবছর আগে ভগবানপুরের যুবক কাঁচা সবজি ব্যবসায়ী রাকেশ সাহার সাথে ওই ব্লকেরই মকদমপুর জিপির মোবারকপুর গ্রামে উত্তম সাহার মেয়ে দীপান্বিতা সাহার বিয়ে হয় হিন্দু শাস্ত্র মতে। বিয়েতে পন হিসেবে কাপড়, ফার্নিচারসহ সব কিছুই দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের পর বছর খানেক মোটামুটি ভালোই চলে সংসার। কিন্তু তারপরই মাঝেমধ্যে গন্ডগোলের খবর পাওয়া যেত। মেয়ের বাবা উত্তম সাহার দাবি গন্ডগোলের মূল কারণ অতিরিক্ত পনের দাবি।

উত্তমবাবু বলেন, পুনরায় ২ লক্ষ টাকা পন দাবি করে রাকেশ। টাকা না পেলে প্রাণে মারার ও হুমকি দেওয়া হয়। তারপরও মেয়ে খালি হাতে শ্বশুরবাড়ি ফিরে গেলে তার ওপর জামাইসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করেন। টাকা না পেয়ে মাঝে মধ্যে মেয়েকে প্রাণে মারার হুমকি দিত শ্বশুরবাড়ির লোকজন এমনটাই ফোনে জানায় মেয়ে।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনটে নাগাদ মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন আসে। জানানো হয় মেয়ে অসুস্থ। খবর পেয়ে লোকজন নিয়ে মেয়ের বাড়ি ছুটে গিয়ে দেখতে পাই মেয়ে বিছানায় মৃত অবস্থায় শুয়ে রয়েছে। কিন্তু মেয়ের গোটা শরীর অ‍্যাসিড দিয়ে পোড়া। গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন। তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হয়েছে। পুলিশ গিয়ে গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। সারারাত চাঁচল হাসপাতালে মৃতদেহ থাকার পর শুক্রবার ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। মেয়ের মা জয়শ্রী সাহা ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের ফাঁসির দাবী জানিয়েছেন।

এদিকে, শুক্রবার দুপুরের দিকে চাঁচল হাসপাতালে মৃত বৌমাকে দেখতে আসেন শ্বশুর গণেশ সাহা। তাঁকে মৃতদেহ দেখতে দেয়নি মেয়ের বাড়ির লোকজন। উল্টে মেয়ের বাড়ির লোকজন গণেশবাবু বেধড়ক পেটায় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে হাসপাতাল চত্বরেই বিশাল গন্ডগোল বাঁধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এবিষয়ে চাঁচল থানার আইসি সুকুমার ঘোষ জানান, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে মৃতার স্বামী, ভাশুর ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে।