উত্তরে ৫০ শতাংশেরও বেশি র‌্যাশন গ্রাহক বিপদে পড়তে পারেন

299

কোচবিহার : চলতি বছরের ৩১ অগাস্টের মধ্যে সমস্ত র‌্যাশন গ্রাহকের আধার সংযুক্ত করার কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর গ্রাহকদের ৫০ শতাংশেরও বেশি এখনও পর্যন্ত এর আওতায় আসেনি। খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গে সব মিলিয়ে র‌্যাশন গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ২ কোটি ৮ লক্ষ ১৮ হাজার। তার মধ্যে আধার সংযুক্তকরণের জন্য আবেদনের কাগজপত্র জমা পড়েছে ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৮০৭ জনের। আর সংযুক্তকরণ হয়েছে ৮১ লক্ষ ২৩ হাজার ৮৩৯ জনের।  নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে যাঁদের আধার সংযুক্ত করা যাবে না তাঁরা ৩১ অগাস্টের পর র‌্যাশন কীভাবে পাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ভাবাচ্ছে খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদেরও।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ বলেন, গোটা রাজ্যে ১০ কোটি ৩২ লক্ষ গ্রাহকের র‌্যাশন কার্ড রয়েছে। তার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি সংযুক্তকরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও অর্ধেকের মতো কাজ হয়েছে। অগাস্ট মাস পর্যন্ত কাজটি শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। আধার সংযুক্তকরণ হয়ে গেলে র‌্যাশন বিলিতে স্বচ্ছতা থাকবে। যে কোনও জেলা থেকে কোনও পরিবার খাদ্যসামগ্রী তুলতে পারবেন। মন্ত্রী বলেন, গ্রাহকদের যাঁদের আধার কার্ড নেই বা আধারে সমস্যা রয়েছে তাঁদের এই সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে জেলা শাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে ক্যাম্প করে আধার কার্ড করে দিতে। একটি এজেন্সিও নিয়োগ করা হয়েছে। তারা দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করতে গ্রাহকদের বাড়ি, বাড়ি যাবে।

- Advertisement -

খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে র‌্যাশন কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তকরণের কাজ শুরু হয় রাজ্যে। আধার সংযুক্ত করা থাকলে গ্রাহকরা কতটা সামগ্রী দোকান থেকে পাবেন তার মেসেজ পেয়ে যাবেন। স্বচ্ছতা থাকবে প্রক্রিয়ায়। খাদ্য দপ্তরও বুঝতে পারবে কত মানুষ র‌্যাশন নিচ্ছেন। সবথেকে বড় কথা, গ্রাহকের কাছেই তাঁর প্রাপ্য র‌্যাশন পৌঁছোবে। সেইসঙ্গে গ্রাহকরা যে কোনও জেলা বা রাজ্য থেকে র‌্যাশন নিতে পারবেন।

কিন্তু ২০১৯ সালের পর প্রায় দুবছর হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত রাজ্যের অর্ধেক র‌্যাশন গ্রাহকের আধার সংযুক্ত করা যায়নি। উত্তরবঙ্গেও একই অবস্থা। এদিকে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। গতি কম থাকায় সময়সীমা এক মাস বাড়িয়ে তা অগাস্ট মাস পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে প্রায় দুবছরে  কাজ ৫০ শতাংশও করা গেল না সেখানে হাতে থাকা দুমাসে কতটা করা যাবে? খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এটা শুধু রাজ্যের বিষয় নয়। কেন্দ্রীয় সরকার এক দেশ এক র‌্যাশন কার্ড চালু করতে চাইছে। তার সঙ্গেও আধার সংযুক্তকরণের সম্পর্ক রয়েছে। কারণ আধার সংযুক্ত না হলে রাজ্যের কোনও মানুষ অন্য রাজ্যে গেলে বা বাসস্থান পরিবর্তন করলে সেখানে র‌্যাশন পাবেন না।

রাজ্য খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে র‌্যাশন গ্রাহক রয়েছেন ১০ কোটি ৩২ লক্ষ। আধার সংযুক্তকরণের জন্য আবেদন করেছেন ৮ কোটি ৭৭ লক্ষ ৭৬ হাজার। সংযুক্তকরণ সম্পন্ন হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭৯১ জনের। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মধ্যে কোচবিহার জেলায় ৩৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ১৫১ র‌্যাশন কার্ড রয়েছে। তার মধ্যে আধার সংযুক্তকরণের জন্য আবেদন হয়েছে ২৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ২০৩ জনের। সংযুক্তকরণ হয়েছে ১৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৬৪ জনের। আলিপুরদুয়ার জেলায় র‌্যাশন কার্ড রয়েছে ১৭ লক্ষ ৬৮ হাজার ৮৬৪।  আধার সংযুক্তকরণের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ১২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২১ জনের। সংযুক্ত করা হয়েছে ৭ লক্ষ ২১ হাজার ৫২৭ জনের।  জলপাইগুড়ি জেলায়  ২৬ লক্ষ ৪১১০ জন র‌্যাশন গ্রাহকের মধ্যে সংযুক্তকরণের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছেন ২২ লক্ষ ২৩ হাজার ৮৯৩ জন। সংযুক্তকরণ হয়েছে ১১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫০৫ জনের। দার্জিলিং জেলায় র‌্যাশন কার্ড রয়েছে ১৭ লক্ষ ৬০ হাজার ৩১০ জনের। আধার সংযুক্ত করার জন্য আবেদন হয়েছে ১৩ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৭১টি। সংযুক্তকরণ হয়েছে ৭ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৮৫ জনের। কালিম্পং জেলায় র‌্যাশন কার্ড রয়েছে ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৭০২ জনের।  তার মধ্যে আধার সংযুক্তকরণের জন্য আবেদন হয়েছে ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৬৭৯ জনের। সংযুক্তকরণ সম্পন্ন হয়েছে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৩০ জনের।

উত্তর দিনাজপুর জেলায় র‌্যাশন কার্ড রয়েছে ৩৭ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪৮ জনের।  আধার সংযুক্তকরণের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২৪ লক্ষ ৩ হাজার  ২৬৬ জনের। সংযুক্তকরণ হয়েছে ১১ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৬০ জনের। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় র‌্যাশন কার্ড রয়েছে ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫০৩ জনের। আধার সংযুক্তকরণের জন্য আবেদন হয়েছে ১৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৯১০ জনের। সংযুক্তকরণ সম্পন্ন হয়েছে ৮ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮২৮ জনের। মালদা জেলায় র‌্যাশন কার্ড রয়েছে ৫৪ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৫১ জনের। তার মধ্যে আধার সংযুক্তকরণের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৩৭ লক্ষ ৪৪  হাজার ৬১৭ জনের। সংযুক্তকরণ হয়েছে ১৯ লক্ষ ৫১ হাজার ৪৪০ জনের।

পরিসংখ্যান থেকেই পরিষ্কার, উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই কমবেশি ৫০ শতাংশ গ্রাহকের আধার সংযুক্ত করার কাজ বাকি রয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ামকরা সকলেই স্বীকার করে নিয়েছেন, মাত্র দুমাসের মধ্যে বাকি ৫০ শতাংশের আধার সংযুক্ত করার কাজ বেশ কঠিন। জেলা প্রশাসন কতটা সক্রিয়ভাবে ক্যাম্প করে তা করতে পারে, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে খাদ্য দপ্তর।