ফের রায়গঞ্জে করোনায় বলি ১, আক্রান্ত দুই স্বাস্থ্যকর্মীও

0
194
- Advertisement -

রায়গঞ্জ: ফের করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত ছটপাড়ুয়া এলাকার মিক্কিমেঘা কোভিড হাসপাতালে বৃদ্ধের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। ২৪ ঘন্টায় দুজনের মৃত্যু হল কোভিড হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত বৃদ্ধের নাম পরমানন্দ দেবশর্মা (৭৫) বাড়ি কালিয়াগঞ্জে। মৃত ওই ব্যক্তি চলতি মাসের ১৪ তারিখে করোনা আক্রান্ত হয়ে রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওই বৃদ্ধির দুটি কিডনি বিকল ছিল বলে কোভিড হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ওইদিন রাত দশটা নাগাদ করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের মৃতদেহ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তা বলেন, ‘পরিবারকে ফোন মারফত জানান হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ সৎকার করা হবে। করোনা পজেটিভরা অবাধে রায়গঞ্জ শহরের জনবহুল এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মারন ভাইরাস সংক্রমিত জেনেও নির্বিবাদে প্রকাশ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে শারীরিক দুরত্ব বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন লোকজনদের সঙ্গে কথাও বলছেন। এমনকি আক্রান্ত একাধিক ব্যবসায়ী মাস্ক না পরেই নির্বিবাদে দোকান খুলে খরিদ্দারদের কাছে সামগ্রী বিক্রি করছেন। শহরের সরকারি বাসষ্ট্যাণ্ড এলাকায় দিন চারের ধরে এমনই দৃশ্য ফুটে উঠেছে। অথচ করোনা ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা হুঁহুঁ করে বাড়ছে রায়গঞ্জ সহ উত্তর দিনাজপুরে।‘

পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে দুর্গাপুজোর মন্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় এড়াতে পুজো কমিটিগুলোকে বিভিন্ন সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে রায়গঞ্জ পুর কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন। রায়গঞ্জ শহরের কোন পুজো মন্ডপ বড় করা হচ্ছে। চন্দননগরের আকর্ষণীয় আলোর কারুকার্য এবার পুজোয় দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন না। এমনকি, দেবী দুর্গার অষ্টমী পুজোর অঞ্জলিতে মন্ডপে ভিড় এড়াতে পুজো কমিটির তরফে বাড়ি বাড়ি স্লিপ বিলি করে বিভিন্ন পর্যায় বাসিন্দাদের অঞ্জলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এমনকি মন্ডপ থেকে বিলির পরিবর্তে পুজোর প্রসাদ পাড়ার বাসিন্দাদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পুজোর মধ্যে সংক্রমণের তীব্রতা ঠেকাতে এত সর্তকতা নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া সত্বেও করোনাভাইরাসে সংক্রমিত বিভিন্ন ব্যবসায়ী যুবক সরকারি স্বাস্থ্যবিধিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সচেতনভাবে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর খেলায় মেতে উঠেছে।

ইতিমধ্যে শুধুমাত্র রায়গঞ্জ পুর এলাকায় সাড়ে ছয়শোর বেশি করোনা পজেটিভ। এমনকি ইতিমধ্যে করোনায় ১৪ জন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে শহরে। সারা জেলায় শনিবার পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৪৭জন। রায়গঞ্জ শহরের এমন কোন এলাকা নেই, যেখানে করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি নেই, এমনটাই দাবি খোদ সংশ্লিষ্ট পুরচেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাসের।

সন্দীপবাবু এদিন উদ্বেগের সুরে বলেন, ‘সংক্রমণ বাড়ছে। কিন্তু তারপরও আমরা সতর্ক না হলে ভয়ানক পরিস্থিতির শিকার হতে হবে। আর তাই এখন বাজারেও ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

অন্যদিকে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিকচন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘করোনা পজেটিভ ব্যক্তিকে কমপক্ষে ১৪ দিন কোভিড হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক। সেইসময় বাইরে বের হওয়া যাবে না। কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা যাবে না।‘

- Advertisement -