বিক্ষুব্ধদের দাবি মেনে পদক্ষেপ কংগ্রেসে, পালটা শাস্তির দাবি

531

নয়াদিল্লি: সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামীবছর জানুয়ারি মাসে নতুন সভাপতি নির্বাচন হবে কংগ্রেসে। সোমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আগামী ৬ মাস অন্তর্বর্তী সভানেত্রী হিসেবে সোনিয়া গান্ধি দলের দায়িত্ব সামলাবেন বলে প্রস্তাব পাস হয়েছে। এআইসিসির অধিবেশন পর্যন্ত দলের ব্যাটন থাকবে সোনিয়ার হাতে। কংগ্রেসের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সভাপতি নির্বাচন সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। নতুন সদস্য বাছাই থেকে শুরু করে রাজ্যস্তরে প্রতিনিধি নির্বাচনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অন্তত ৬ মাস লাগে। গুলাম নবি আজাদ, কপিল সিবাল, আনন্দ শর্মা, শশী থারুর সহ মোট ২৩ জন নেতা কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিবর্তন ও সংগঠনের খোলনলচে বদলানোর দাবিতে চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ৭ ঘণ্টা ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এআইসিসি অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত হলেও অধিকাংশ বিক্ষুব্ধ নেতার অভিযোগ, চিঠিতে যে উদ্বেগের বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছিল, সেগুলির দিকে নজর দেওয়া হয়নি।

যদিও দলের অন্দরের খবর, বিক্ষব্ধুরা যে বিষয়গুলি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, সোনিয়ার নির্দেশে সেগুলির দিকেও নজর দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। যেমন ঝাড়খণ্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আর পি এন সিং, পঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আশা কুমারী এবং ছত্তিশগড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা পি এল পুনিয়াকে হয় অন্য কোনও রাজ্যের ভার দেওয়া হতে পারে নয়তো দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এছাড়া আচমকা বুধবার রাতে এআইসিসির তরফে ৫ সদস্যের এক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কমিটি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পকে দর্লের অবস্থান চূড়ান্ত করবে। ওই কমিটিতে আছেন পি চিদাম্বরম, দ্বিগ্বিজয় সিং, জয়রাম রমেশ, অমর সিং ও গৌরব গগৈ। বিক্ষুব্ধ নেতাদের কাউকে অবশ্য কমিটিতে রাখা হয়নি। কিন্তু বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান ঠিক করার দাবি ছিল তাঁদের লেখা চিঠিতে। কাযর্ত আজাদ, আনন্দ শর্মার মতো নেহরু-গান্ধি পরিবারের আস্থাভাজন নেতারা যেভাবে বিক্ষুব্ধের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তাতে খানিকটা হলেও বিস্মিত সোনিয়া ও রাহুল।

- Advertisement -

বিক্ষুব্ধদের এভাবে শান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রবীণ কংগ্রেসনেতা দিগ্বিজয় সিং বুধবার মন্তব্য করেন, এভাবে চিঠি লিখে এবং মিডিয়ায় তা ফাঁস করে অত্যন্ত অনুচিত কাজ করেছেন বিক্ষুব্ধরা। তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধিকে চিঠি লিখে দৃশ্যমান ও সক্রিয় নেতৃত্বের দাবি জানানো মোটেই উচিত হয়নি। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির যেকোনও সদস্য যে কোনও বিষয় নিয়ে কমিটির অন্দরে চাইলে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু চিঠি লিখে মতবিরোধের বিষয়টি সামনে আনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই অভিযোগে মল্লিকার্জুন খাড়গে, অম্বিকা সোনির মতো ওয়ার্কিং কমিটির প্রবীণ সদস্যরা আজাদদের শাস্তির দাবিও তুল্যছেন। আজাদ, আনন্দ শর্মারা অবশ্য বৈঠকের পর বারবার দাবি করেছেন, তাঁরা একবারও নেহরু-গান্ধি পরিবারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। নেতৃত্বের প্রশ্নে পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্য তাঁরা মেনে নেওয়ায় তাই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে দলের খোলনলচে বদলের দাবি তুলে লাভ কী হল? কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতাই মনে করেন, রাহুল গতবছর সভাপতি পদে ইস্তফা দিলেও দলকে তিনিই কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেক্ষেত্রে বিক্ষুব্ধ নেতাদের প্রশ্ন, তিনি যখন দলকে নিয়ন্ত্রণই করছেন, তখন দায়িত্ব গ্রহণ করতে অসিুবধা কোথায়!

কংগ্রেসের এক নেতা জানিয়েছেন, আদতে ২৩ জন নেতা সোনিয়ার কাছে পত্রবোমা পাঠালেও এর নেপথ্যে রাজ্যসভা, লোকসভার সাংসদ, প্রদেশ নেতা সহ প্রায় ১০০ জন নেতার সমর্থন ছিল। সোনিয়া-রাহুলের রোষে পড়ার ভয়ে তাঁরা শেষপর্যন্ত চিঠিতে সই না করলেও বিক্ষুব্ধদের প্রতি নৈতিক সমর্থনের বার্তা দিয়েছিলেন।