প্রচারে সিদ্দিকুল্লাহর ছায়াসঙ্গী সন্ন্যাসী মহারাজ, কটাক্ষ বিরোধীদের

182

বর্ধমান: বাংলায় এবারের বিধানসভা ভোট যুদ্ধ যেন অনেকটা ‘ধর্ম যুদ্ধের’ রুপ পেয়েছে। সাথে সাথে গেরুয়া রং ও ’বাঁচাও সাধু বাবা’ এই আপ্তবাক্যটির প্রতিচ্ছবিও যেন ধরা পড়ছে ভোটের প্রচারে। এটা যে নিছক কথার কথা নয় তার প্রমাণ বিজেপির ভোট প্রচারে যেমন মিলছে, তেমনই মিলছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রর্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর ভোট প্রচারে। এসব দেখে ভোটারদেরও চক্ষু ছানাবড়া। তাঁরা বলছেন, ‘সত্যি- একেই বলে রাজনীতির রঙ্গ তামাসা।’

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর বিধানসভায় দলের প্রার্থী করেছেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে। তারপর থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে মন্তেশ্বরে প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। কিন্তু লক্ষনীয় বিষয় হয়ে উঠেছে সিদ্দিকুল্লাহ সাহেবের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচীতে গেরুয়া বসন পরিহিত সন্ন্যাসী পরমানন্দ মহারাজের উপস্থিতি। তিনি বেলুড় মঠের মহারাজ বলেই খবর। ওই সন্ন্যাসী মহারাজই যেন ভেটের প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর ছায়াসঙ্গী।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে মন্তেশ্বরের ভোটার মহলেও বিশেষ কৌতুহলের তৈরি হয়েছে। ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন এবারের বিধানসভা ভোটে সব রাজনৈতিক দলই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ধর্মকে আঁকড়েই ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে। হিন্দু ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে বিজেপি নেতা-কর্মীরা গেরুয়া পোষাক, গেরুয়া তিলকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কথায় কথায় ‘জয় শ্রীরাম’ শ্লোগান দিয়ে তাঁরা ভোট যুদ্ধের ময়দানও মাতাচ্ছে। কৌশলে ঠিক তেমনই কায়দায় সিদ্দিকুলাহ চৌধুরীও কি গেরুয়া বসন পরিহিত সন্ন্যাসী মহারাজকে সঙ্গে নিয়ে হিন্দু ভোট নিজের পক্ষে টানতে চাইছেন? এই প্রশ্নই এখন মন্তেশ্বরবাসীর কাছে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

ভোটের ময়দানে সন্ন্যাসী মহারাজের উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা যাই থাক, তাতে জল ঢেলে দিয়েছেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এই ভারতবর্ষ, এই বাংলা সর্ব ধর্মের মানুষের মহামিলন ক্ষেত্র। কিন্তু রাজনীতির আঙ্গিনায় যারা মেরুকরণের বিষ ছড়াতে চাইছে তাদের সেই রাজনীতিতে জল ঢেলে দিতেই তিনি সম্প্রীতির এই ছবি ও বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান। যারা মেরুকরণের বিষ ছড়াচ্ছেন তাঁদের গায়ে লাগছে বলেই তাঁরা এই বিষয়টিকে নিয়ে সমালোচনা করছেন। একই সঙ্গে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী দাবি করেছেন, ভোটের অনেক আগে ‘এনআরসি’র বিরোধীতায় কলকাতায় হওয়া লক্ষ-লক্ষ মানুষের জমায়েতেও তিনি বিভিন্ন মঠের মহারাজ সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিত্বদের সামিল করেছিলেন। তার মধ্য দিয়েই বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের বহিপ্রকাশ ঘটেছিল বলে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন।

বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর এই দাবিকে মানতে চাইছেন না। বিজেপি নেতা অরূপ সিংহ রায় বলেন, ‘হাতে হাত ধরে প্রচারে বেরিয়ে উনি যেন বলতে চাইছেন এবারটা ’বাঁচাও সাধু বাবা’। আসলে সবটাই ভোটের কৌশল। ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে উনি আগে থেকেই এই সব সেটিং করে রেখে ছিলেন। সবটাই লোক দেখানো। তবে এইসব করে কিছু লাভ হবে না। মানুষ ওনার খেলা ধরে ফেলেছেন। সেই কারণে উনি যা প্ল্যান করেছেন তার উল্টোটা ভোটের ফলে ঘটে যেতে পারে।’

অন্যদিকে মন্তেশ্বর বিধানসভার প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক চৌধুরী মহম্মদ হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘পায়ের তলায় মাটি খুইয়ে এখন উনি নানা কৌশল কাজে লাগাচ্ছেন। তবে এইসব করে কিছু হবেনা।’