রামনামে অযোধ্যায় হোটেল শিল্পে লক্ষ্মীলাভের আশা

731
প্রতীকী ছবি।

নয়াদিল্লি: রামচন্দ্র এখন রাজনীতির অস্ত্র তো বটেই। যদি অযোধ্যার কথা ধরা যায়, তাহলে অর্থনীতির মোড় ঘোরানোর পরশপাথরও! রামজন্মভূমিতে প্রস্তাবিত মন্দিরের ভূমিপুজোর পর রামনামের শরণ নিয়ে অযোধ্যাকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরে লক্ষ্মীলাভের আশায় দিন গুনতে শুরু করেছে একাধিক বহুজাতিক হোটেল সংস্থা। অ্যাকর এবং রাডিসন গোষ্ঠী এরকমই দুটি সংস্থা, যারা অযোধ্যায় প্রস্তাবিত রামমন্দিরকে ঘিরে নিজেদের ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

ইতিমধ্যে এই দুটি সংস্থা পর্যটন ও তীর্থকেন্দ্র হিসেবে অযোধ্যার সম্ভাবনা এবং সেখানে হোটেল শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডেভেলপারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। রাডিসন হোটেল গোষ্ঠীর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জুবিন সাক্সেনা বলেন, অযোধ্যায় হোটেল শিল্পের উন্নয়নের সম্ভাবনায় আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে প্রস্তুত। এ ব্যাপারে আমরা প্রাথমিকভাবে আলোচনা শুরু করে দিয়েছি। ধর্মীয় স্থানগুলিতে হোটেল খোলার যে নীতি আমরা নিয়েছি, তার সঙ্গে অযোধ্যার পরিস্থিতি দিব্যি খাপ খেয়ে যায়। রাডিসন গোষ্ঠীর হোটেল আছে কাটারা, নাথদোয়ারা, হরিদ্বার, অমৃতসরের মতো তীর্থকেন্দ্রগুলিতেও।

- Advertisement -

অ্যাকর ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট লোকেশ সাভারওয়াল জানিয়েছেন, অযোধ্যায় হোটেল খোলার ব্যাপারে তাঁরা প্রাথমিকস্তরে আলোচনা শুরু করেছেন ঠিকই, কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনও প্রস্তাব তাঁদের কাছে পৌঁছোয়নি।

ভারতে হোটেল শিল্পে অন্যতম প্রতিষ্ঠিত নাম ওবেরয় গোষ্ঠী। সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অযোধ্যায় হোটেল তৈরির জন্য তাঁদের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও ডেভেলপার কিংবা সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রস্তাব দেননি। তবে রাম জন্মভূমিতে রঘুপতির নামমাহাত্ম্যে ভর করে হোটেল শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত ওবেরয গোষ্ঠী। সে কারণে তারা অযোধ্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে শুরু করে দিয়েছে।

ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল এবং আইটিসি হোটেল এখনও পর্যন্ত অযোধ্যার ব্যাপারে টুঁ শব্দ করেনি। আইএইচসিএল জানিয়েছে, তাদের কাছে এখনও সেরকম কোনও প্রস্তাব আসেনি। তবে অযোধ্যার মতো ধর্মস্থানকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুললে লাভ বই লোকসান নেই বলেও মেনে নিয়েছেন সংস্থার আধিকারিকরা।

গত ৫ অগাস্ট অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভূমিপুজো করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেদিন তিনি বলেছিলেন, রামমন্দির অযোধ্যা সহ গোটা অঞ্চলের অর্থনীতি আমূল বদলে দেবে। ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ মন্দিরটির নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা। কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশ সরকার অযোধ্যাকে ভারতের পর্যটন মানচিত্রে তুলে আনতে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। অযোধ্যায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অত্যাধুনিক রেলস্টেশন, ঝাঁ চকচকে চওড়া রাস্তা তৈরির কথা রয়েছে। সরযূর দুই পাড়ে অযোধ্যা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির উদ্যোগে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা রয়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের। রামমন্দির তৈরি হয়ে গেলে সেখানে প্রতিদিন ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ পুণ্যার্থী আসার সম্ভাবনা। সেদিক থেকে দেখতে গেলে রামনামে অযোধ্যার অর্থনীতির প্রভূত উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ হোটেল ব্যবসায়ীরা।