উত্তরপ্রদেশে আটকে উত্তরবঙ্গের পড়ুয়ারা, বাড়ি ফেরানোর আর্জি

636

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার প্রায় ১৫ জন পড়ুয়া উচ্চশিক্ষালাভের জন্য প্রায় ২ মাস আগে উত্তরপ্রদেশের কনৌজ গিয়েছিলেন। লকডাউন ঘোষণা হতেই তাঁরা সকলেই আটকে পড়েছেন সেখানে। পড়ুয়াদের সঙ্গে অভিভাবিকারাও রয়েছেন। একদিকে করোনা আতঙ্ক, অন্যদিকে আর্থিক সঙ্কট। লকডাউনের জন্য ট্রেন, বাস, বিমান বন্ধ। কিভাবে বাড়ি ফিরবেন ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা। এদের বাড়ি ইটাহার, করনদিঘি, কালিয়াগঞ্জে। এই জেলার পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদারও অনেক পড়ুয়া আটকে রয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রত্যেকেই ইমেইলে জেলা প্রশাসনের কাছে তাদের ফেরানোর জন্য আবেদন জানিয়েছে।

উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের জীবনকুমার মালাকার, ইটাহারের অর্পিতা বসাক, মিঠু রায়, রমা বর্মন, সেলিম শেখ এবং করনদিঘির শিবা গোস্বামী ও হৈমন্তি সিনহার পাশাপাশি হরিরামপুরের নয়ন দেবশর্মা, রাখি জয়সওয়াল, সীমা জয়সওয়াল,  বংশীহারীর অর্পিতা রায় ও কুশমন্ডির সুস্মিতা বাস্কেরা আটকে রয়েছেন। মালদা জেলার গাজলের রনজিৎ বর্মন, তন্ময় মন্ডল এবং চাঁচলের ফিরদৌসি বেগমও গত ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা দিতে গিয়ে আটকে রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই উত্তরপ্রদেশের কনৌজের গঙ্গা সিং কলেজের পড়ুয়ারা। লকডাউনের জন্য পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় তারা সেখানে আটকে পড়েছেন।

- Advertisement -

উত্তরপ্রদেশ থেকে জীবন কুমার মালাকার জানান, ‘আমাদের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় পুলিশ বিভাগ এবং এসডিএমের সঙ্গে কথা বলেছি। জেলাপ্রশাসনের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি। কিন্ত সেভাবে কোনও আশ্বাস পাওয়া যায়নি। কলেজ ক্যাম্পাসে রয়েছি। আমাদের সঙ্গে দুজন অভিভাবিকা রয়েছেন। ইতিমধ্যে অন্য রাজ্য থেকে আসা পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুঝতে পারছি না আমাদের কি হবে।’ করনদিঘির শিবা গোস্বামী ফোনে জানায়, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়ে দিয়েছে ৩মে পর খাওয়া দাওয়ার দায়িত্ব নেবে না এবং আমাদের ক্যাম্পাসে রাখবে না। অন্যদিকে করোনা আতঙ্ক আমাদের গ্রাস করেছে। রাজ্যের তিন জেলার ১৫ জন আটকে রয়েছি এখানে। জেলা প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন যেন শীঘ্রই বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।’

মহকুমাশাসক অর্ঘ্য ঘোষ জানান, ‘এদের নামের তালিকা বিডিও এবং জেলাপ্রশাসনের কাছে পঠিয়ে দেব।’ বিডিওরা পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যাপারে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যাপারে জেলা প্রশাসন রাজ্যের সঙ্গে কথা বলবেন। উত্তর দিনাজপুর জেলাপরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন বলেন, ‘পড়ুয়াদের তালিকা জেলা পুলিশ প্রশাসনকে দেব। শীঘ্রই যাতে প্রত্যেককে ফিরিয়ে নিয়ে আসা যায় সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

আটকে পড়া পড়ুয়াদের তালিকা